সেই দিক থেকে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আমাদের মাননীয় মন্ত্রী ও উপদেষ্টা সকলেরই নেতৃত্বে প্রথমেই আমরা এখানে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের জন্য একটি কৌশলগত ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করার জায়গাটা ঠিক করেছি। সাধারণভাবে এখানে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাগুলো হয়ে এসেছে; আমরা সেই জায়গায় একটি কৌশলপত্র তৈরি করার কাজ হাতে নিয়েছি।
ইতিমধ্যে এর যে মূল আউটলাইন (খসড়া), তা অনুমোদিত হয়েছে। যেমন সরকারের ১৮০ দিন, প্রথম বছর এবং পাঁচ বছরের একটি পরিকল্পনা থাকবে, তেমনি একই সাথে এই পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সেই দিকটিও কৌশলপত্রে গুরুত্বের সঙ্গে থাকবে। এর কাজ চলছে। একই সাথে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দিক থেকে বাজেট প্রণয়নের কাজও চলছে।
যেহেতু বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), যেটার সঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত; তাই সেই এডিপি প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার জায়গা ছিল চলমান যেসব প্রকল্প আছে—যেগুলো মূলত পূর্বের সরকারের ধারাবাহিকতায় এসেছে—সেগুলোর একটি পুনঃমূল্যায়ন করা। সেগুলোতে ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং সময়সীমার মধ্যে কাজ কেন হলো না, এই সমস্ত বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা।

একই সঙ্গে আমাদের সরকারের নির্বাচনী যে ইশতেহার, তার সাথে এগুলো কীভাবে সংগতিপূর্ণ হবে এবং এর মধ্য দিয়ে আমরা নতুন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোকে কীভাবে গ্রহণ করব, সেটিও আমাদের বিবেচনায় ছিল। ইতোমধ্যে তিনটি একনেক বৈঠক হয়েছে। একটি জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল সভা হয়েছে এবং সেই সভার মধ্য দিয়ে তিন লক্ষ আট হাজার কোটি টাকার উপরে এডিপি অনুমোদন হয়েছে। এর বাইরে চলমান এবং নতুন যেসব প্রকল্পের প্রস্তাব এসেছে, সেগুলোকে ম্যানিফেস্টোর (ইশতেহার) সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করে এবং প্রয়োজনীয় সংযোজন-পরিমার্জন করে, সেগুলোকে পুনরায় নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ও যৌক্তিক ব্যয়ে সম্পন্ন করার একটি পরিকল্পনা গৃহীত হচ্ছে।
এক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে যেসব বাধা থাকে, সেই বাধাগুলো কীভাবে দূর করা হবে এবং কী কারণে বাধাগুলো তৈরি হয়—সেসব বিষয়ে বেশ কিছু প্রকল্প ধরে ধরে তদন্ত হচ্ছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে যাদের নানা দিক থেকে অভিজ্ঞতা আছে, তাদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এর সমাধান কীভাবে করা যাবে, তা নিয়েও কাজ চলছে। জুন মাসের মধ্যেই আশা করা যায় এ বিষয়ে একটি নতুন নির্দেশনা তৈরি করা সম্ভব হবে, যার মধ্য দিয়ে আগামী দিনে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সেগুলো বাস্তবায়নের ব্যাপারে আগের চেয়ে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন তৈরি করতে আমরা সক্ষম হব।
এখানে প্রকল্পের ক্ষেত্রে যে জিনিসটা ঘটে—প্রকল্পগুলোর মধ্যে যে একটি ইন্টিগ্রেশন বা অঙ্গীভবন দরকার হয়, সেই জায়গাগুলোর ঘাটতি আগেরকার প্রকল্প গ্রহণ প্রক্রিয়ার মধ্যে ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। সেগুলো দূর করা এবং মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনাগুলো যাতে আমাদের ইশতেহারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং একটি ইন্টিগ্রেটেড (সমন্বিত) পরিকল্পনায় কর্মসূচি-ভিত্তিক প্রকল্প তৈরি হয় ও তা জাতীয় পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে—সেই দিকগুলো বিশেষভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মোদ্দা বিষয় হচ্ছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন খুবই জরুরি; কারণ এই পাবলিক ইনভেস্টমেন্টের (সরকারি বিনিয়োগ) মধ্য দিয়ে অর্থনীতির মধ্যে গতিসঞ্চার হয়, যা বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে। সেই বিনিয়োগ যাতে উৎসাহিত হয়, তার জন্য অর্থনৈতিক ও অনর্থনৈতিক বাধাগুলো দূর করে অর্থনীতিকে বিনিয়োগ-নির্ভর, কর্মসংস্থানমুখী এবং মানবসম্পদ তৈরির একটি অর্থনীতিতে পরিণত করা—সর্বোপরি একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ নির্মাণের দিকে এগিয়ে যাওয়া, সেটাই এখন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় কাজ করছে।










