এ লক্ষ্যে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে ব্যবসা সহজীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে একটি ব্যবসা শুরু করতে ২৫-২৬টি সংস্থার লাইসেন্স এবং প্রায় ৩৫৫ দিন সময় লাগে। এ প্রক্রিয়াকে সরল ও সমন্বিত করার কাজ চলছে।

সরকারি লোকসানি পাট, বস্ত্র ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে বেসরকারি খাতের হাতে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ৫০টি মিলের মধ্যে ৩৮-৪০টি চালুর উপযোগী এবং অন্তত ছয়টি দ্রুত বেসরকারি খাতে দেয়া হবে। একই সঙ্গে সার কারখানা, চিনিকলসহ বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে চীনা বিনিয়োগকারীদের কাছেও বিভিন্ন প্রকল্প উপস্থাপন করা হচ্ছে।

চিনিকলের ক্ষেত্রে আখের পরিবর্তে সুগার বিট থেকে চিনি উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। বিটের উৎপাদনকাল কম এবং উৎপাদন দক্ষতা বেশি হওয়ায় কিছু চিনিকল রূপান্তরের চিন্তা রয়েছে। এছাড়া এলএনজি সরবরাহের মাধ্যমে সার কারখানা সারা বছর চালু রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।

নতুন আমদানি নীতি আদেশে ওভারল্যাপিং কমিয়ে আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোম্পানি নিবন্ধন পুরোপুরি অনলাইন ও দ্রুত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

  • সারা দেশে ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে ১১-২১ মে ২০২৬ পর্যন্ত ১০ দিন (শুক্রবার ব্যতীত) দৈনিক ট্রাক প্রতি ৪০০ জন সাধারণ জনগণের নিকট সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্যাদি (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রয়ের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এ ট্রাকসেলের মাধ্যমে প্রায় ২৮ দশমিক ৮০ লাখ উপকারভোগীর নিকট প্রায় ১৩ হাজার ৯৩৯ টন পণ্য বিক্রয় করা হয়। যেকোনো ভোক্তা ট্রাক থেকে পণ্য ক্রয় করতে পেরেছেন।
  • সরকার রফতানিতে গতি ফেরানোর লক্ষ্যে প্রাচ্য, দূরপ্রাচ্য, ইউরোপ, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক জোট ও অঞ্চলের সাথে দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক ও মাল্টিলেটারাল পর্যায়ে কৌশলগত ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) গঠনে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে শুল্ক হ্রাস, অশুল্ক বাধা কমানো, বাজার প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করা হবে, যাতে রফতানি বৈচিত্র্য বাড়ে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসইভাবে এগিয়ে যায়।
  • বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক রফতানিমুখী শিল্প খাতকে নিম্নসুদে Pre-shipment Loan সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে।
  • আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯ প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে, যাতে ব্যবসা সহজীকরণ, আমদানি প্রক্রিয়া দ্রুততরকরণ এবং রফতানিমুখী শিল্পকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা হ্রাস পাবে এবং সময় ও ব্যয় উভয়ই কমবে।
  • দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৮০০টি অভিযান পরিচালনা করে ৫ হাজার ৫৯৬টি প্রতিষ্ঠানকে দণ্ড প্রদান করে এবং ৪,৪৬,৪৩,৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করে।
  • নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে The Control of Essential Commodities Act, 1956 যুগোপযোগী করার জন্য আইনটির প্রয়োজনীয় সংশোধন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
  • দেশে নিত্যপণ্যের বাজার ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ভারত ও ইন্দোনেশিয়াসহ অপরাপর দেশের প্রচলিত মডেল পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য একটি আদর্শ মডেল নিরূপণ করার লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করার নিমিত্ত সম্প্রতি Bangladesh Institute of Development Studies (BIDS) কে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
  • সিলেট জেলায় তুলনামূলক কম দামে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য ভোক্তাদের কাছে বিক্রির জন্য “কৃষকের বাজার” চালু করা হয়েছে। কৃষকের হাট উদ্যোগে উৎপাদনকারী ও ভোক্তা উভয়ই লাভবান হবে। পরীক্ষামূলক উদ্যোগ সফল হলে সারা দেশে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
  • রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে রফতানি নীতি ২০২৪-২৭-এ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত ও বিশেষ অগ্রাধিকার খাতে বিশেষ নীতি সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে।
  • সরকারের একটি অগ্রাধিকার—দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা। প্রতিকূল বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে অন্যান্য বছরের তুলনায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তারল্য সংকট থাকা সত্ত্বেও খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সংকট তৈরি হয়নি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়

  • পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রাধান্য পাচ্ছে চিনিকল, রেশম ও পাট শিল্প।
  • স্বল্প ব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাই-টেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা প্রস্তুত করে সেখানে সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ইকোসিস্টেম তৈরি শুরু করা হয়েছে।