এসব পরিবর্তন ১০০ দিনের মধ্যে পুরোপুরি দৃশ্যমান হয় না। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সিস্টেমগুলো সঠিকভাবে কাজ করা শুরু করবে। এ নিয়ে বড় পরিসরে কাজ চলছে। দৃশ্যমান যেসব উদ্যোগ রয়েছে, সেগুলোও আগামী এক-দুই মাসের মধ্যেই দেখা যাবে।
জুলাইয়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ে ইউনিফর্ম, জুতো ও স্কুল ব্যাগ দেয়ার পাইলট কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করা হচ্ছে। এর কিছু কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সাংস্কৃতিক শিক্ষার শিক্ষক, খেলাধুলার মতো কাজ অন্তর্ভুক্ত করছি। গাছ লাগানোর কর্মসূচি প্রতিটি স্কুলে আমরা শুরু করছি। অর্থাৎ সহশিক্ষা কার্যক্রম, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষাকে আরো অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। স্কুলভিত্তিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ক্যালেন্ডারে আনা হচ্ছে।
প্রতিটি স্কুলে গাছ লাগানোর কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে। দৃশ্যমানভাবে অনেক কাজ হচ্ছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হচ্ছে প্রশাসনিক ও কাঠামোগত জায়গায়। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের ইনসেনটিভ, কারিকুলাম—সবকিছুতেই পরিবর্তনের কাজ চলছে। এ ধরনের পরিবর্তন ১০০ বা ১৮০ দিনে হয় না। হয়তো দৃশ্যমান হবে আরো কিছুদিন পর। বড় পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়নে আরো কিছুটা সময় লাগবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিগত তিন মাসের কার্যক্রমে শিক্ষার আধুনিকায়ন, যুগোপযোগী শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং শিক্ষকের দক্ষতার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
- ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব—প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানে পিইডিপি-৫ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ৩৮ লাখ ৪০ হাজার ট্যাব ক্রয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করা হচ্ছে।
- এছাড়া ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি কর্মসূচি, শিক্ষার্থীদের পোষ্য প্রাণী পালনে উৎসাহিতকরণ, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদান, স্বাস্থ্য ও খাদ্যে অগ্রাধিকার, শিক্ষা খাতে সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য হ্রাস, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতকরণ, ক্রীড়া ও দেশীয় সংস্কৃতি শিক্ষা অন্তর্ভুক্তি, আনন্দময় শিক্ষা, সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পথ উন্মুক্ত করা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের শিক্ষা উন্নয়ন, সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক, সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা সৃষ্টিতে গুরুত্বারোপ, শিক্ষকদের অবসর ভাতা প্রাপ্তি সহজীকরণ, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো, দুর্গম অঞ্চলে ঝরে পড়া রোধে উদ্যোগ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গঠন, বিদ্যমান বিধিমালা/নীতিমালা/নির্দেশিকা/ অপারেশনাল ম্যানুয়াল যুগোপযোগীকরণ।
- আগামী জুলাই থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ বিতরণের পাইলট কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেশের প্রতিটি উপজেলার দুটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা পাবে।










