হামসংক্রান্ত
- দায়িত্ব গ্রহণের পর হাম রোগের প্রাদুর্ভাব ও টিকার স্বল্পতাজনিত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হই। সবার সহযোগিতায় আমরা টিকার সংকট কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।
- প্রথম পর্যায়ে গত ৫ এপ্রিল থেকে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় হামের জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয় ।
- পরে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় টিকা দেয়া শুরু হয়।
- আর ২০ এপ্রিল থেকে অবশিষ্ট সারা দেশে একযোগে টিকা দেয়া আরম্ভ হয়। বগুড়া থেকে প্রধানমন্ত্রী এর উদ্বোধন করেন।
আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর বাড়ানো এবং বাবল সিপ্যাপ চালুকরণ
- হামে আক্রান্ত বা অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসায় মহাখালীতে অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে মাত্র ১৮ ঘণ্টা আইসিইউ চালু করা হয়। ১৬ মার্চ ২০২৬ সোমবার মধ্যরাতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয় ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। ১৭ মার্চ সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঁচটি আইসিইউ ও পাঁচ শয্যার এইচডিইউ শয্যা চালু করা হয়েছে।
- রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুদের জন্য সাতটি ভেন্টিলেটর দেয়া হয়েছে।
- ঢাকা শিশু হাসপাতালে একটি ভেন্টিলেটর দেয়া হয়েছে, পাঁচটি বাবল সিপ্যাপ ও পাঁচটি হাই-ফ্লো ন্যাসাল ক্যানুলা দেয়া হয়েছে।
- ইআরপিপি প্রকল্পের আওতায় ১৩টি জেলা সদর হাসপাতালে নির্মিত অব্যবহৃত আইসিইউগুলো পুনরায় চালুকরণের জন্য দ্রুত গতিতে আইসিইউগুলোর সংস্কারকাজ ও চিকিৎসক পদায়ন করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে আইসিইউগুলো দ্রুত চালু করার কার্যক্রম চলমান এবং আরো ২০টি ভেন্টিলেটর (অ্যাডাল্ট ও শিশু) সামনের সপ্তাহে এ কার্যক্রমে যুক্ত হবে।
- এছাড়া ডিএনসিসি কভিড হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মানিকগঞ্জ হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে বা নতুন করে স্থাপন করা হয়েছে।
- ১২ মে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রেডিয়েন্ট ফার্মাসিটিক্যালস থেকে অনুদান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত উন্নতমানের ১০টি নিওনেটাল এবং পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর পাওয়া গিয়েছে। এগুলো ১৯ মে বিভিন্ন হাসপাতালে বণ্টন করে দেয়া হয়েছে।
আইসোলেশনের ব্যবস্থা ও ভিটামিন এ খাওয়ানো
- হাম সংক্রামক রোগ হওয়ায় সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতেও আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথমে ৩০ শয্যাবিশিষ্ট আইসোলেশন ও পরবর্তী সময়ে আরো দুটি ওয়ার্ড চালু করার মাধ্যমে বর্তমানে ৯০টির বেশি শয্যা বাড়ানো হয়েছে।
- হাম আক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের ভিটামিন এ খাওয়ানো হচ্ছে। ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য ক্রয় প্রক্রিয়া চলমান। UNICEF ১০ জুনের মধ্যে Vitamin A ক্যাপসুল নিয়ে আসবে। ২ কোটি ২৪ লাখ Vitamin A ক্যাপসুল (২ লাখ IU) ও ৪০ লাখ Vitamin A ক্যাপসুল (১ লাখ IU) দ্রুত এসে পৌঁছাবে।
ভ্যাকসিন সংগ্রহ
- দেশে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করতে বৃহৎ পরিসরে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করছে সরকার।
- সরকার এরই মধ্যে ৮৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ইউনিসেফকে প্রদান করেছে, যার মাধ্যমে ১০ ধরনের প্রায় ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে।
- এমাসে ৩ মে প্রথম চালানে ১৫ লাখের বেশি ডোজ আইপিভি ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছায়।
- ৬ মে আরো ১৫ লাখ ডোজ এমআর এবং নয় লাখ ডোজ টিডি ভ্যাকসিন এসেছে।
- এ মাসে সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ ডোজ এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন (ওপিভি) এবং পেন্টা ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাচ্ছে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরো সরবরাহ সম্পন্ন হবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে।
- দেশে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। নতুন সরবরাহের ফলে ৮ থেকে ১২ মাস ভ্যাকসিনের ঘাটতি হবে না। কোল্ড চেইন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভ্যাকসিনের গুণগত মান নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে ইউনিসেফ কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।
- ইউনিসেফ ও গ্যাভির সহায়তায় হাম-রুবেলা টিকাদানের জন্য প্রয়োজনীয় আরো ২২ লাখ মিক্সিং সিরিঞ্জ চট্টগ্রাম পোর্টের মাধ্যমে দেশে পৌঁছেছে।
- ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের নিচে ১ কোটি ৮০ লাখ এমআর টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তা অর্জিত হয়েছে। এর পরও কেউ বাদ পড়ে থাকলে এবং নির্ধারিত টিকা কেন্দ্রে গেলে তাদের টিকা দেয়া হচ্ছে।
- চীনা টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাকের তৈরি অনুদানকৃত মোট ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল (৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ) পোলিও (Poliomyelitis Vaccine, Inactivated Sabin Strains (sIPV) টিকার চালান এরই মধ্যে ইপিআই সংরক্ষণাগারে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
এছাড়া উল্লেখযোগ্য আরো যেসব উদ্যোগ এরই মধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো, টিবি রোগের ওষুধ সংগ্রহ, অ্যান্টিরÅবিস টিকার ব্যবস্থাকরণ, চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বৃদ্ধি, ঢাকা মেডিকেলে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন, ইউএইচএফপিও সম্মেলন এবং আনসার নিয়োগ, হাসপাতাল স্থাপন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা নিয়োগ
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কিছু কার্যক্রমের অগ্রগতি
- দেশব্যাপী প্রাথমিক সবাস্থ্যসেবা সমন্বিত ও গণমুখী করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান।
- স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরবান হেলথ কেয়ারের বিদ্যমান ১৯২টি ব্যবহৃত এবং অব্যবহৃত স্থাপনা চিহ্নিত করে পর্যালোচনার মাধ্যমে ব্যবহারের উপযোগী করার উদ্যোগ চলমান আছে। সেই সাথে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্মিত এবং অব্যবহৃত স্থাপনাসমূহের উপযুক্ত ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
- তৃণমূলী স্বাস্থ্যসেবা সমন্বয় করার জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণের মাঠকর্মীদের কাজের সমন্বয় ও একীভূত করার পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
- দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী ক্ষমতায়নকে প্রাধান্য দিয়ে মোট কর্মীর ৮০ শতাংশই নারী থেকে নেয়া হবে এবং এর মূল উদ্দেশ্য নারীর ক্ষমতায়ন।
- সঠিক ও গুণগত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর প্রক্রিয়া চলমান আছে। সারা দেশে হাসপাতালগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।










