মোবাইল বা সেলফোন নেটওয়ার্কিংয়ে ফাইভজি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। এশিয়া থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এ নেটওয়ার্ক চালু করা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সামগ্রিকভাবে ২০২৩ সালে ফাইভজি নেটওয়ার্ক সংযোগের সংখ্যা ১৭৬ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।
ফাইভজি আমেরিকাসের প্রতিবেদনের বরাতে টেকটাইমসের খবরে এ তথ্য উঠে এসেছে। এর কারণ হিসেবে সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট ক্রিস পিয়ারসন নতুন উদ্ভাবন ও সংযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয় তুলে ধরেছেন।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস ব্রডব্যান্ড চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যে কারণে খাতসংশ্লিষ্টরা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং বিশ্বজুড়ে ফাইভজি সংযোগ বাড়াতে কাজ করছে। সংবাদমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে ক্রিস পিয়ারসন বলেন, ‘ওয়্যারলেস টেলিযোগযোগ খাত একটি নতুন যুগের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস ভোক্তা পর্যায়ে ব্রডব্যান্ডের চাহিদা পূরণ করছে। অন্যদিকে নতুন প্রযুক্তির মাইলফলক বিশ্বব্যাপী টেলি নেটওয়ার্ক সংযোগ অভিজ্ঞতাকে এগিয়ে নিচ্ছে।’
ফাইভজি আমেরিকাস প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ফাইভজি গ্রহণ ও ব্যবহারের দিক থেকে উত্তর আমেরিকা এগিয়ে। ২০২২-এর তুলনায় ২০২৩ সালে দেশটিতে এ নেটওয়ার্ক সংযোগ ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। সে হিসাবে দেশটিতে ১৯ কোটি ৭০ লাখ ফাইভজি সংযোগ রয়েছে, যা ওই অঞ্চলের মোট সংযোগের ২৯ শতাংশ।
লাতিন আমেরিকাও ভালো এগিয়েছে। ২০২৩ সালের শেষদিকে অঞ্চলটিতে ফোরজি লং-টার্ম ইভোলিউশন (এলটিই) সংযোগ ৫৮ কোটি ২০ লাখ এবং ফাইভজি ৩ কোটি ৯০ লাখ ছাড়িয়েছে। ফাইভজি নেটওয়ার্ক প্রবেশ করলেও অঞ্চলটিতে এখনো ফোরজি এলটিইর ব্যবহার বেশি।
ফাইভজি আমেরিকাসের লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসে ওটেরো বলেন, ‘এ অঞ্চলে ফোরজি এলটিই নেটওয়ার্ক এখনো শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। যদিও ফাইভজি স্মার্টফোনের বাজার, তরঙ্গ নিলামসহ নেটওয়ার্কের কভারেজ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সামনের বছরগুলোয় ব্যবহারকারী আরো বাড়বে।’
বাজার বিশ্লেষক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়া টেলিযোগাযোগ খাতে আরো ভালো দশক পার করার পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী ২০২৮ সাল নাগাদ ফাইভজি নেটওয়ার্কের বৈশ্বিক সংযোগ ৭৯০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। এর মধ্যে শুধু উত্তর আমেরিকাতেই ৭০ কোটি নতুন সংযোগ চালু হবে বলেও জানানো হয়েছে।
ওমডিয়ার প্রধান বিশ্লেষক ক্রিস্টিন পাউলিনের প্রত্যাশা, ২০২৮ সাল নাগাদ বিশ্বে মোট টেলি নেটওয়ার্ক সংযোগের অর্ধেকই থাকবে ফাইভজি। এছাড়া ফাইভজি ডাটা প্রযুক্তি খাতের মোট ট্রাফিক বা ব্যবহারকারীর সিংহভাগ দখলে রাখবে এবং ২০২৮ সাল নাগাদ ৭৬ শতাংশে উন্নীত হবে।
সংযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্বে ফাইভজি নেটওয়ার্ক বিস্তারও উল্লেখযোগ্য হারে এগিয়েছে। ২০২৪ সালের ১৮ মার্চের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে বাণিজ্যিক পর্যায়ে ৩১৪টি নেটওয়ার্ক রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ২০২৫ সাল নাগাদ তা ৪৫০ ছাড়িয়ে যাবে।










