সাইবার অপরাধীরা প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। তাদের জন্য ই-মেইল এখনো প্রধান আক্রমণের মাধ্যম। সম্প্রতি সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি হর্নেটসিকিউরিটির গবেষণায় উদ্বেগজনক প্রবণতা উঠে এসেছে, যার মধ্যে ক্ষতিকর ই-মেইলের সংখ্যা বৃদ্ধি ও পরিচয়পত্র চুরির জটিল কৌশল অন্যতম। খবর টেকরাডার।

২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ২ হাজার ৫০ কোটি ই-মেইল পেয়েছে, যার মধ্যে ৩৬ দশমিক ৯ শতাংশ ছিল অবাঞ্ছিত। এর মধ্যে ২ দশমিক ৩ শতাংশ অর্থাৎ ৪২ কোটি ৭৮ লাখ ই-মেইলে ক্ষতিকর কনটেন্ট ছিল। ফিশিং হামলা সাইবার আক্রমণের এক-তৃতীয়াংশ দখল করেছে, যা সামাজিক প্রকৌশলের মাধ্যমে নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

ক্ষতিকারক অ্যাটাচমেন্ট যুক্ত আক্রমণ কিছুটা কমলেও রিভার্স প্রক্সি পরিচয় চুরির মতো নতুন হুমকি দেখা যাচ্ছে। সামাজিক প্রকৌশল ও ক্ষতিকর লিংকের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ভুয়া লগ ইন পেজে নেয়া হয়, যা দেখতে আসল ওয়েবসাইটের মতো। সেখানে লগ ইন তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

এ উন্নত পদ্ধতিগুলো দুই স্তরের নিরাপত্তা যাচাই (টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) এড়িয়ে যেতে পারে। এভিলজিংক্সের মতো টুল ব্যবহার করে আক্রমণকারীরা জাল লগ ইন পোর্টাল তৈরি করছে, যা সংবেদনশীল তথ্য চুরি করা সহজ করে তুলছে। ২০২৩ সাল থেকে ক্ষতিকারক ইউআরএলের ব্যবহার বেড়েছে, যা বর্তমানে ২২ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ শিল্পের জন্য হুমকি সূচক হ্রাস পেলেও লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে খনি, বিনোদন ও উৎপাদন শিল্পের ঝুঁকি বেশি। র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণ ও ডাবল-এক্সটর্শন স্ক্যাম এসব খাতে সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাইবার অপরাধীরা ডিএইচএল, ফেডেক্স, ডকুসাইন, ফেসবুক, মাস্টারকার্ড ও নেটফ্লিক্সের ছদ্মবেশ ধারণের হার দ্বিগুণ করেছে।

এসব আক্রমণ মোকাবেলায় উন্নত ই-মেইল ফিল্টারিং, মাল্টি-লেয়ার অথেনটিকেশন ব্যবস্থা গ্রহণ ও কর্মীদের সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। হর্নেটসিকিউরিটির সিইও ড্যানিয়েল হফম্যান বলেন, ‘৪২ কোটি ৭০ লাখের বেশি ক্ষতিকর ই-মেইল ইনবক্সে পৌঁছাচ্ছে। অর্থাৎ নিরাপত্তা কৌশল আরো উন্নত করতে হবে। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শূন্য-ভরসা নীতি (জিরো ট্রাস্ট) গ্রহণ করতে হবে। যাতে দুর্বলতাগুলো আগেভাগেই চিহ্নিত করা যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘সুরক্ষিত ব্যবসা গড়ে তুলতে সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে। কর্মীদের বোঝাতে হবে যে সাইবার নিরাপত্তা তাদের ব্যক্তিগতভাবেও প্রভাবিত করে। সচেতনতাই প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ রাখার চাবিকাঠি।’