ওপেনএআইয়ের জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি বিভিন্ন ধরনের কাজ সম্পাদন ও যেকোনো প্রশ্নের দ্রুত উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর। তবে সম্প্রতি কিছু গোষ্ঠী এআই চ্যাটবটকে ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ম্যালওয়্যার তৈরি করা ও অপরাধমূলক কার্যকলাপের তথ্য পেতে এআইকে বিভ্রান্ত করা। খবর দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় ইউনিভার্সিটি অ্যাট আরবানার-শ্যাম্পেইনের (ইউআইইউসি) নতুন গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, সাইবার অপরাধীরা চ্যাটজিপিটির রিয়েল-টাইম ভয়েস এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) প্রতারণার জন্য ব্যবহার করতে পারে। এপিআই একটি সফটওয়্যার ইন্টারফেস, যা দুটি বা তার বেশি সফটওয়্যার প্রোগ্রামের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ইউআইইউসির গবেষকদের মতে, চ্যাটজিপিটির মতো নতুন টুলগুলোয় এখনো যথেষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতারক ও সাইবার অপরাধীরা এসব টুল অপব্যবহার করতে পারছে। তারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ক্রিপ্টো ট্রান্সফার, গিফট কার্ড স্ক্যাম ও ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে মতো প্রতারণা চালাতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কীভাবে চ্যাটজিপিটি-ফোরের মতো এআই এজেন্টগুলো প্রকৃত মানুষের মতো আচরণ করে। এগুলো অজান্তেই মানুষকে প্রতারণা করে ব্যাংক অব আমেরিকার মতো আসল ওয়েবসাইট ব্যবহার করে টাকা স্থানান্তর করতে প্ররোচিত করতে পারে। গবেষণায় অংশ নেয়া রিচার্ড ফ্যাং বলেন, ‘আমরা সহজে প্রতারিত হওয়া ভিকটিমের মতো অভিনয় করে ভয়েস এজেন্টের সঙ্গে কথা বলি ও প্রতারণার পরিস্থিতি তৈরি করি। প্রতিটি পরীক্ষায় সফলতার হার ২০-৬০ শতাংশের মধ্যে ছিল।’
গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ব্যাংক ট্রান্সফারসংক্রান্ত প্রতারণায় সফলতার হার কম ছিল, কারণ এগুলোয় জটিল নেভিগেশন (নির্দেশনা অনুসরণ) প্রয়োজন। তবে জিমেইল ও ইনস্টাগ্রাম থেকে তথ্য চুরি করা সফল হয়েছে।
এ বিষয়ে ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা জিপিটি-ফোরকে ক্রমাগত উন্নত করছে, যেন কেউ প্রতারণা করার চেষ্টা করলে বাধা দেয়া যায়। স্যাম আলটম্যানের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানটি আরো উল্লেখ করেছে, চ্যাটজিপিটির পরিমার্জনে ইউআইইউসির মতো গবেষণাপত্রগুলো তাদের সাহায্য করছে। যেন এ প্রযুক্তির ক্ষতিকারক ব্যবহার ঠেকানো যায়।










