সোশ্যাল মিডিয়া ফিডে এখন প্রায়ই চোখে পড়ছে এআই-চালিত ভিডিও, বিশেষ করে ডিপফেক কনটেন্ট। তবে উন্নত প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে এ ধরনের ভিডিও আগের তুলনায় আরো বাস্তবসম্মত হয়ে উঠেছে। ফলে এগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীদের পক্ষে সহজে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিপফেকের মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ডিজিটাল নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে।

প্রযুক্তি ও এআই প্লাটফর্মের সহজলভ্যতার কারণে এখন সাধারণ ব্যবহারকারীরাও খুব সহজে বাস্তবের মতো দেখতে ভিডিও তৈরি করতে পারছে। তবে কিছু টুলের ব্যবহারে এসব ভিডিও এআই জেনারেটেড কিনা তা জানা যায়—

ডিপওয়্যার: বর্তমানে অনেক ডিপফেক ভিডিও এতটাই নিখুঁত যে চোখে পড়ার মতো কোনো অসংগতি থাকে না। মুখভঙ্গি, আবেগ, এমনকি কণ্ঠস্বরও বাস্তবের মতোই মনে হয়। সাধারণ চোখে এসব ধরা প্রায় অসম্ভব। এমন পরিস্থিতিতে সহায়তা করতে পারে একটি ফ্রি অনলাইন টুল—ডিপওয়্যার। টুলটি ব্যবহার করাও খুব সহজ। শুধু deepware.ai ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘গো টু স্ক্যানারে’ ক্লিক করতে হবে। এরপর ভিডিও লিংক পেস্ট করে, অথবা ফোন বা কম্পিউটার থেকে ভিডিও আপলোড করতে হবে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই জানিয়ে দেয়া হবে ভিডিওটি সন্দেহজনক কিনা। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ মতামতের জন্যও অনুরোধ জানানো যাবে।

অ্যাটেস্টিভ: এআই-চালিত ভিডিও বা ডিপফেক শনাক্তে আরো একটি কার্যকর টুল হচ্ছে ভিডিও ডট অ্যাটেস্টিভ ডট কম (video.attestiv.com)। এটি ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্রি ও প্রিমিয়াম—দুই ধরনের সুবিধা দেয়।

ফ্রি প্ল্যানে মাসে সর্বোচ্চ পাঁচটি ভিডিও স্ক্যান করা যায়। তবে ভিডিও হতে হবে ২ মিনিটের কম। এতে কিছু সীমাবদ্ধতাও থাকে। যেমন উন্নত বিশ্লেষণ অপশন ব্যবহার করা যায় না। যাদের বেশি স্ক্যান দরকার বা দ্রুত ফলাফল দরকার, তারা চাইলে মাসিক ৯ ডলার ৯৯ সেন্টে প্রিমিয়াম প্ল্যান নিতে পারবে। এখানে ২৫টি স্ক্যানের সুযোগ মিলবে। এছাড়া বড় ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য আরো উন্নত সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানও রয়েছে।

অ্যাটেস্টিভ টুলটি ব্যবহার পদ্ধতিও সহজ। ওয়েবসাইটে গিয়ে ভিডিও আপলোড বা লিংক পেস্ট করতে হবে। স্ক্যান শেষ হলে দেখাবে একটি রেটিং। স্কোর যত বেশি, ভিডিওটি বিকৃত বা এডিট করা হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। সহজ ও নির্ভরযোগ্য টুলটি ডিপফেক শনাক্তে একটি কার্যকর হাতিয়ার বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ইনভিড: এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী অন্যান্য টুলের মতো সরাসরি স্কোর বা ‘ফেক/রিয়েল’ রায় দেয় না ইনভিড। বরং এটি ভিডিওকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে ভাগ করে বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি করে দেয়। ফলে ব্যবহারকারী নিজেই যাচাই করতে পারেন ভিডিওটি আসল না নকল। টুলটি অন্যদের মতো কোনো ওয়েবসাইট নয়, এটি ক্রোম ওয়েব স্টোরে থাকা একটি ব্রাউজার এক্সটেনশন। ভিডিও স্ক্যান করতে হলে ‘ভিডিও’ ট্যাবে গিয়ে ‘কিফ্রেমস’ অপশন বেছে নিতে হবে। এরপর ভিডিও লিংক বা ফাইল আপলোড করতে হবে। সফটওয়্যারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিওর মুখাবয়ব, টেক্সট লোকেশন ও মূল ফ্রেম আলাদা করে দেখাবে। এগুলো ব্যবহার করে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা যায় কিংবা ভালো করে দেখে বোঝা যায় ভিডিওতে কিছু অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক আছে কিনা।

চ্যাটজিপিটি: সর্বশেষে আসে এআই দিয়ে এআই শনাক্ত। যদিও চ্যাটবটটি প্রচলিত কোনো ডিপফেক শনাক্তকারী টুল নয়, তবে এটি ভিডিও বিশ্লেষণে সহায়ক হতে পারে। শুধু ভিডিও আপলোড বা লিংক দিয়ে যদি জিজ্ঞেস করা হয়—‘এ ভিডিও কি এআই দিয়ে তৈরি?’

চ্যাটজিপিটি ভিডিওকে বিভিন্ন ফ্রেমে ভাগ করে মুখের অস্বাভাবিক চলন, ভিজুয়াল ত্রুটি বা গ্লিচ খুঁজে বের করে। যদিও সরাসরি কোনো স্কোর বা হ্যাঁ-না উত্তর দেয় না, তবে কী সমস্যা থাকতে পারে, তা বিস্তারিত ব্যাখ্যায় জানায়। -মেকইউজঅব অবলম্বনে