ইথেরিয়াম ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ১৫০ কোটি ডলার (১ দশমিক ১ পাউন্ড) ডিজিটাল কয়েন বা ক্রিপ্টো চুরি করেছে হ্যাকাররা। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো চুরির ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর বিবিসি।

দুবাইভিত্তিক ক্রিপ্টোকারেন্সি ফার্ম বাইবিটের প্রতিষ্ঠাতা বেন ঝো জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। কোম্পানির তহবিল বা অংশীদারদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এ ক্ষতিপূরণ করা হবে।

বাইবিট গত শুক্রবার বলেছে, ডিজিটাল ওয়ালেটগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি ইথেরিয়ামের একটি নিয়মিত লেনদেনে একজন হ্যাকার ‘কারচুপি’ করেছে। এর মাধ্যমে ক্রিপ্টোকে একটি অজ্ঞাত ঠিকানায় স্থানান্তর করা হয়। বিটকয়েনের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি ইথেরিয়াম।

এ তথ্য ফাঁস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাইবিট থেকে ব্যবহারকারীরা ব্যাপক হারে অর্থ উত্তোলন শুরু করে। এক্সচেঞ্জের দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল অনেকের মনেই। গ্রাহকদের আশ্বস্ত করতে বাইবিটের সিইও বেন ঝাউ জানান, বড় আকারের ক্ষতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা পাওয়া এবং কোম্পানির কার্যক্রম সচল রাখা নিশ্চিতে অংশীদারদের কাছ থেকে ধার নিয়েছে কোম্পানিটি। অর্থ উত্তোলনের হার এখন স্থিতিশীল হয়েছে।

এক্সচেঞ্জে তাদের ক্রিপ্টোকারেন্সির ঠিকানাগুলো নিরাপদ রয়েছে বলে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করেছে বাইবিট। ফার্মটি আরো জানায়, হ্যাকিংয়ের খবরে কারেন্সি তুলে নেয়ার অনুরোধের পরিমাণ অনেকটাই বেড়েছে এবং সেগুলো প্রক্রিয়াকরণে বিলম্ব হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হ্যাকাররা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটিকে কাজে লাগিয়ে ক্রিপ্টো স্থানান্তর করে। চুরির পর শুক্রবার ইথেরিয়ামের মূল্য ৪ শতাংশ কমে ২ হাজার ৬৪১ দশমিক ৪১ ডলার দাঁড়ায়। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বাইবিট জানায়, বিশ্বব্যাপী তাদের ৬ কোটি ব্যবহারকারী রয়েছে। তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ক্ষেত্রে বাইবিট যথেষ্ট স্বনির্ভর এবং ফার্মটি এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের এক পোস্টে কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করছে। হ্যাকারদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জনপ্রিয় হলেও এর মূল্য শুধু অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ায় অনেকেই এর সমালোচনা করেন। ক্রিপ্টোকারেন্সির নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব ডিজিটাল কয়েন ট্রাম্প চালু করেছেন, যা প্রথমদিকে উচ্চমূল্য পেলেও পরে এর মূল্য কমে যায়।

হ্যাকারদের অন্যতম প্রিয় কৌশল হিসেবে দেখা হয় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করা। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় হ্যাকাররা সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কয়েকটি উচ্চ-ডলারের ক্রিপ্টো চুরির ঘটনায় জড়িত হয়েছে।

গত ডিসেম্বরে জাপানের এফবিআই, প্রতিরক্ষা বিভাগ ও ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সি এক যৌথ বিবৃতি দিয়ে জাপানের একটি ক্রিপ্টো ফার্ম থেকে ৩০৮ মিলিয়ন ডলার চুরির জন্য উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের দায়ী করে।

এদিকে ব্লকচেইন বিশ্লেষকদের মতে, চুরি হওয়া ক্রিপ্টো দ্রুত বিক্রি করা হয়েছে। এলিপটিক এবং আর্কহ্যাম ইন্টেলিজেন্সসহ আরো কয়েকটি ব্লকচেইন বিশ্লেষণ সংস্থা চুরি হওয়া ক্রিপ্টোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে যে, এ সম্পদ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হওয়ার পর দ্রুত বিক্রিও হয়ে গেছে। এলিপটিকের মতে, এ হ্যাকিং আগের যেকোনো ক্রিপ্টো চুরির ঘটনাকে ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে, ২০২১ সালে পলি নেটওয়ার্ক থেকে চুরি হওয়া ৬১১ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২২ সালে বাইন্যান্স থেকে লোপাট হওয়া ৫৭০ মিলিয়ন ডলার।

এলিপটিকের বিশ্লেষকরা তখন সেই হ্যাকিংয়ের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার লাজারাস গ্রুপের যুক্ত থাকার প্রমাণ শনাক্ত করে। এ লাজারাস গ্রুপ একটি রাষ্ট্র সমর্থিত হ্যাকিং চক্র, যা ক্রিপ্টোকারেন্সি শিল্প থেকে বিলিয়ন ডলার চুরি করার জন্য কুখ্যাত। তারা সাধারণত উন্নতমানের মানি লন্ডারিং পদ্ধতির মাধ্যমে তহবিলের প্রবাহ আত্মসাৎ করে উত্তর কোরিয়ার শাসন ব্যবস্থায় অর্থায়ন করে।