বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন মেরামত বাজারের আকার চলতি বছর শেষে ছাড়াবে ২ হাজার কোটি ডলারে। বাজার গবেষণা সংস্থা বিজনেস রিসার্চ ইনসাইটসের তথ্যানুযায়ী, আগামী ১০ বছরে বাজারটির আকার প্রায় দ্বিগুণ ছাড়িয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছবে। এ সময়ে বাজারের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার (সিএজিআর) হবে আনুমানিক ৮ শতাংশ।

বিজনেস রিসার্চ ইনসাইটস বলছে, মানুষ এখন প্রায় সব ধরনের কাজের জন্য মোবাইল ডিভাইসের ওপর নির্ভর করছে। ফলে স্মার্টফোন মেরামতের খাত উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে কিছু সমস্যাও সামনে এসেছে, যেমন ভাঙা স্ক্রিন, ব্যাটারি সমস্যা ও সফটওয়্যার সংযোগ বিঘ্ন। ফলে ডিভাইস মেরামতের সেবার চাহিদা বাড়ছে।

স্মার্টফোন মেরামতের বাজারে রয়েছে নির্মাতাদের অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টার এবং স্বতন্ত্র রিপেয়ার শপ। এখানে সাধারণ মেরামত থেকে শুরু করে স্ক্রিন বদল এবং মাদারবোর্ডের জটিল মেরামত পর্যন্ত নানা ধরনের কাজ করা হয়।

বাজার গবেষণা সংস্থাটি বলছে, কভিড-১৯ মহামারী স্মার্টফোন মেরামতের খাতকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে। ওই সময় মানুষ যোগাযোগ এবং রিমোট লার্নিংয়ের জন্য স্মার্টফোনের ওপর বেশি পরিমাণে নির্ভর করতে শুরু করে। সরবরাহ চেইনের জটিলতা ও দামসহ নানা কারণে মানুষ নতুন ফোন কেনার বদলে বিদ্যমান ফোন মেরামত করাই বেছে নিয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, খরচসচেতন ও পরিবেশবান্ধব ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যবহৃত বা সেকেন্ড হ্যান্ড স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। মেরামতের দোকানগুলো এখন রিফার্বিশমেন্ট সেবা দিচ্ছে। এখানে ডিভাইসগুলো কম খরচে বিক্রি করা হয়, পাশাপাশি ই-ওয়েস্টও কম হয়। নতুন ফোনের উচ্চমূল্যের কারণে গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত ডিভাইস মেরামতের দিকে ঝুঁকছে।

স্মার্টফোন বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ক্রিন বা ব্যাটারির মতো ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কম খরচে মেরামত ও পরিবর্তন করা যায়। খরচসচেতন ব্যবহারকারীদের জন্য মেরামতের বাজার আরো শক্তিশালী হচ্ছে।

বিজনেস রিসার্চ ইনসাইটসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন মেরামতের বাজার চার ধরনের। ব্যাটারি মেরামত ও পরিবর্তন, স্ক্রিন মেরামত ও পরিবর্তন, ক্যামেরা মেরামত ও পরিবর্তন এবং অন্যান্য মেরামত।