হারমনি অপারেটিং সিস্টেমের জন্য আগামী কয়েক মাসে এক লাখ অ্যাপ্লিকেশন তৈরির পরিকল্পনা করেছে চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াওয়ে। স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে নিজেদের ইকোসিস্টেম (হারমনিকে ঘিরে পণ্য, সেবা ও সফটওয়্যার তৈরি) সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রে কালো তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটি। খবর দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

হুয়াওয়ের বর্তমানে ১৫ হাজারেরও বেশি হারমনিভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। এগুলো ব্যবহারকারীর মৌলিক চাহিদার জন্য সহায়ক। তবে কোম্পানিটি তার ইকোসিস্টেমে আরো উচ্চ গুণমানসম্পন্ন অ্যাপ্লিকেশন যুক্ত করে পরিমার্জন করতে চায় বলে জানান চেয়ারম্যান জু ঝিজুন। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে হারমনিকে গ্রাহকের চাহিদা পূরণে পরিপূর্ণ করতে এক লাখ অ্যাপ প্রয়োজন। আগামী ছয় থেকে বারো মাসে এটি আমাদের মূল লক্ষ্য।’

প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, এক লাখ অ্যাপ তৈরির লক্ষ্যটি চীনের জন্য দেশীয় প্রযুক্তি দ্রুত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। এটি এমন সময়ে ঘটছে, যখন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

হুয়াওয়ে পাঁচ বছর আগে এ অপারেটিং সিস্টেম চালু করেছিল। কারণ ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড সাপোর্ট বন্ধ হয়ে যায়। পরে শেনজেনভিত্তিক স্মার্টফোন কোম্পানিটি হারমনি সিস্টেমের একটি ওপেন সোর্স সংস্করণ তৈরি করে।

জু বলেন, ‘মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে হুয়াওয়ে তার নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে যেকোনো অপারেটিং সিস্টেম, যতই উন্নত হোক না কেন, যদি কেউ এটি ব্যবহার না করে তবে তার কোনো মূল্য থাকবে না।’ জুর প্রত্যাশা, ডেভেলপাররা অ্যাপের সরবরাহ বাড়াতে কঠোর পরিশ্রম করবেন। এছাড়া সরকারি সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে হারমনি অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এদিকে সিস্টেমের অপরিণত অবস্থার কথা স্বীকার করে জু বলেন, ‘যত বেশি মানুষ এটি ব্যবহার করবে, তত দ্রুত এটি পরিপক্ব হবে।’

প্রযুক্তি-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হারমনি ওএস এখনো পরিবর্ধনের মধ্যে রয়েছে। হুয়াওয়ে এটিকে আরো উন্নত করতে এবং এর অ্যাপ ও ডিভাইস ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো বিদেশী প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা কমানো, বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েড।