চলতি বছর প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরবে ভিডিও গেমিং খাত। বিশেষ করে সনি প্লেস্টেশনসহ বিভিন্ন কনসোলের বিক্রি বাড়ায় বৈশ্বিক পর্যায়ে খাতটির আয় ও প্রবৃদ্ধি বাড়বে। গেমিং বাজার বিশ্লেষক সংস্থা নিউজু সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খবর রয়টার্স।

নিউজু জানায়, চলতি বছর ভিডিও গেমিং খাতের আয় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১৮ হাজার ৭৭০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। মূলত চলতি বছর কনসোল বিক্রি ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ায় এ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। গবেষণা সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে বৈশ্বিক পর্যায়ে গেমিং খাতের আয় ৫ শতাংশ কমে গিয়েছিল।

নিউজুর বিশ্লেষক টম উইজমান বলেন, ‘২০২৩ সালে প্রথমার্ধে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা গেম টাইটেল প্রকাশ্যে এসেছে। দ্বিতীয়ার্ধে আরো কিছু গেম আসবে। এছাড়া নতুন কনসোলের সরবরাহ গ্রাহককে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে চাহিদাও বাড়ছে।’

জুলাইয়ে প্লেস্টেশনের নির্মাতা সনি এক বিবৃতিতে জানায়, চলতি বছর কোম্পানিটি আড়াই কোটি ইউনিট বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এটি প্লেস্টেশনের জন্য নতুন রেকর্ড। কেননা বর্তমানে সরবরাহ চেইনের সমস্যা অনেকটাই কমে এসেছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সার্কানা জানায়, ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে গ্রাহক পর্যায়ে ভিডিও গেম হার্ডওয়্যারে ব্যয় ২৩ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু এ সময় ভিডিও গেম কনটেন্ট ব্যয় সেভাবে বাড়েনি। কেননা এ সময় গেমাররা অ্যাক্টিভিশন ব্লিজার্ডের কল অব ডিউটির মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি গেমেই নির্ভর ছিল।

চলতি মাসের শুরুতে অ্যাপেক্স লিজেন্ডস গেমের প্রকাশক ইলেকট্রনিক আর্টস (ইএ) কম আয়ের পূর্বাভাস ব্যক্ত করেছে। কেননা গেমে অভ্যন্তরীণ ব্যয় আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। তবে সেপ্টেম্বরে ইএ স্পোর্টস এফসি ফুটবল ফ্যান্টাসি গেমের মাধ্যমে গেমারদের ব্যয় বাড়ার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছে।

নিউজুর আশা, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক গেমিং খাতে মোট আয়ের ৫০ শতাংশই আসবে মোবাইল গেম থেকে। যদিও অ্যাপল ও গুগলের গোপনীয়তা নীতিমালা পরিবর্তন মনিটাইজেশনে সমস্যা তৈরি করবে। সংস্থাটি আরো জানায়, কম্পিউটারের স্পেফিকিশেন কম থাকলেও ক্লাউড গেমিংয়ের মাধ্যমে গেমাররা যেকোনো গেম সরাসরি স্ট্রিম করতে পারে। চলতি বছর শেষে এ খাতে সক্রিয় ও পেইড ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪ কোটি ৩১ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।