বিভিন্ন সময় জনপ্রিয় অনলাইন প্লাটফর্ম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন ধনকুবের ইলোন মাস্ক। এবার তিনি ঘোষণা দিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনলাইন বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার বিকল্প তৈরি করার। তার নতুন এ প্রকল্পের নাম হবে ‘গ্রোকিপিডিয়া’। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংস্থা এক্সএআই এ প্লাটফর্ম তৈরি করবে। মাস্কের দাবি, এটি হবে মানুষের তথ্য জানার ক্ষেত্রে উইকিপিডিয়ার চেয়ে অনেক ‘বৃহত্তর অগ্রগতি।’

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একজন ব্যবহারকারী পোস্ট করে, যেখানে উইকিপিডিয়াকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করা হয়। জবাবে মাস্ক লিখেন, ‘আমরা এক্সএআইয়ে গ্রোকিপিডিয়া তৈরি করছি। এটি হবে উইকিপিডিয়ার চেয়ে ব্যাপক উন্নত। আসলে মহাবিশ্বকে বোঝার এক্সএআইয়ের লক্ষ্য পূরণের জন্য এটি এক প্রয়োজনীয় ধাপ।’

অবশ্য মাস্কের প্রথম অভিযোগ নয় এটি। টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী দীর্ঘদিন ধরে উইকিপিডিয়াকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে আসছেন। তার দাবি, প্লাটফর্মটি বামপন্থী চিন্তাধারায় প্রভাবিত। তিনি উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের অর্থ সংগ্রহ পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি মূলত সাধারণ মানুষের অনুদানের ওপর নির্ভর করে।

মাস্ক জানিয়েছেন, গ্রোকিপিডিয়া উইকিপিডিয়ার মতো সাধারণ মানুষের সম্পাদিত বিশ্বকোষ হবে না। বরং এটি তৈরি হবে গ্রোক এআইকে কেন্দ্র করে যা এক্সএআইয়ের তৈরি একটি চ্যাটবট। ২০২৩ সালের শেষ দিকে মাস্ক গ্রোক চালু করেন যা ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। মাস্ক দাবি করেন, গ্রোক মিথ্যা শনাক্ত করতে, আংশিক সত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে এবং অনলাইনে তথ্যের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করতে সক্ষম।

তবে প্রতিবেদন বলছে, মাস্কের এআই সিস্টেম নিয়ে বিতর্কেরও শেষ নেই। চলতি বছরের শুরুতে গ্রোক এক উত্তরে বলেছিল, আমেরিকার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর তিন ব্যক্তি হলেন ইলোন মাস্ক, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্স। পরবর্তীতে গ্রোক ৪ সংস্করণ চালুর পর এআই বটকে একসময় হিটলারকে প্রশংসা করতে দেখা যায়।

এসব ঘটনার পর সমালোচনার ঝড় ওঠে। মাস্ক পরে ব্যাখ্যা দেন, ব্যবহারকারীরা গ্রোককে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘প্রলুব্ধ’ করেছিলেন। তার ভাষায়, ‘গ্রোক তখন অতিরিক্ত ভদ্র ও ব্যবহারকারীর কথামতো কাজ করতে আগ্রহী ছিল। এখন সেটি সংশোধন করা হচ্ছে।’