বিশ্বের চলমান জলবায়ু সংকট সমাধানের নতুন উপায় খুঁজে বের করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে বলে দাবি করেছেন বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল পরিষেবা প্লাটফর্ম অরুপের প্রধান ড. উইল ক্যাভেন্ডিশ। তার দাবি, এআই জলবায়ু এবং পরিবেশগত সমস্যা মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। জলবায়ু মডেলগুলোয় প্রথাগত কম্পিউটারের তুলনায় এআই অনেক কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। এরই মধ্যে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের সম্ভাবনা দেখিয়েছে এআই। এর সঙ্গে কংক্রিটের মতো দূষণকারী উপাদান দূর করা, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যবস্থায় কার্বনের প্রভাব কমানো এবং বিদ্যমান কাঠামোর পুনর্ব্যবহারে এআই সহায়তা করতে পারে বলে জানিয়েছেন ক্যাভেন্ডিশ। খবর টেক টাইমস।

ড. ক্যাভেন্ডিশ প্রযুক্তি সংস্থা ডিপমাইন্ডে চাকরিরত থাকার সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যুগান্তকারী বেশকিছু আবিষ্কারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই এআইয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি চালিয়ে যেতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে, এটি সঠিক এবং নৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। কেননা কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ত্বরান্বিত করতে এআইয়ের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।’"

শুধু ড. ক্যাভেন্ডিশই নন, জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় এআইয়ের ব্যবহারের পক্ষে বলছে নাসাও। ২০২৩ সালে নাসা ও আইবিএম রিসার্চ যৌথভাবে একটি এআই-ভিত্তিক ভূ-স্থানিক ফাউন্ডেশন মডেল তৈরি করেছে। নাসার হারমোনাইজড ল্যান্ডস্যাট অ্যান্ড সেন্টিনেল-২ (এইচএলএস)-এর মতো পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য এআই-চালিত বেশকিছু গবেষণা প্রকল্পের তথ্যাদি রাখার গুরুত্বপূর্ণ সংস্থান তৈরি করেছে এই মডেল। আগ্রহীদের কাছে মডেলটিকে প্রবেশযোগ্যও করেছে নাসা। ফাউন্ডেশন মডেলগুলো বিজ্ঞানীদের জন্য বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার ব্যাপারে দক্ষতাভিত্তিক সমাধানও দিয়েছে। 

নাসার অফিস অব দ্য চিফ সায়েন্স ডাটা অফিসারের (ওসিএসডিও) ডাটা সায়েন্সের প্রধান ম্যানিল মাস্কি এই মডেলগুলোকে নমনীয়তা ও বহুবিধ ব্যবহারের জন্য সুইস আর্মির ছুরির সঙ্গে তুলনা করেছেন। নাসার মতে, বেশ কয়েক ধাপের উন্নতি সাধনের পর এই মডেলগুলো দিয়ে পোড়া দাগ শনাক্তকরণ, বন্যার পানি সুস্পষ্টভাবে খুঁজে বের করা এবং শস্য ও ভূমির ব্যবহারকে শ্রেণীবদ্ধ করা সম্ভব হয়েছে। এ কাজে নাসা দিয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে তথ্য এবং বিজ্ঞানভিত্তিক অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে এআইয়ের অ্যালগরিদমের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আইবিএম দিয়েছে ডাটা। 

ভূ-স্থানিক ফাউন্ডেশন মডেল তৈরিতে সাফল্যের পর নাসা এবং আইবিএম যৌথভাবে একটি আবহাওয়া ও জলবায়ু মডেল তৈরির কাজ করছে। ভূ-স্থানিক মডেলের মতোই আবহাওয়া ও জলবায়ু মডেলটিও আগ্রহীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এছাড়া উদ্ভাবন ও গবেষণার জন্য সহায়তাও নেয়া হবে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে। ভৌত বিজ্ঞানের সব উপাদানের উপযোগী বিভিন্ন ডাটাসেট নিয়ে একাধিক ফাউন্ডেশন মডেলের প্রয়োজন হবে। 

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে এআই ব্যবহারকারীররা উপকৃত হতে পারে বলেও জানা গেছে। প্রথাগত আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয় সাধারণত নির্দিষ্ট ভৌগোলিক তথ্য ব্যবহার করে। অন্যদিকে এআই-চালিত স্মার্ট হোম ডিভাইসগুলো নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের আবহাওয়ার ডাটাসহ সংশ্লিষ্ট যেকোনো ডিজিটাল তথ্য দিতে পারে। 

এ গেজেটগুলোয় শক্তিশালী সেন্সর এবং মেশিন-লার্নিং অ্যালগরিদম রয়েছে। ফলে স্থানীয় আবহাওয়া প্রবণতা, ঐতিহাসিক ডাটা, এমনকি ব্যবহারকারীর অগ্রাধিকার অনুসারেও সূক্ষ্মতর স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরি করতে পারে এসব গেজেট।