বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও টিকটকের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলো একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার ধরন সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়েছে। কিন্তু এ সুবিধার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমের প্রতি আসক্তির মতো সমস্যাও সামনে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রমাগত স্মার্টফোন ঘেঁটে অনলাইনে থাকার প্রবণতা কাজের গতি কমাচ্ছে, বন্ধুত্ব নষ্ট করছে এবং চাপ ও মানসিক অস্থিরতা বাড়াচ্ছে, যা আধুনিক যুগের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
ডিজিটাল মার্কেটিং ও ডাটা অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান কেপিওসের গত ডিসেম্বরের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫২২ কোটি, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৬৩ দশমিক ৮ শতাংশের সমান। অর্থাৎ পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ব্যবহার করে। এর মধ্যে ২১ কোটি মানুষ সামাজিক মাধ্যমে আসক্ত বলছে ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন। এ আসক্তিতে মানসিক স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবন উল্লেখযোগ্যভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে অনেকের, বিশেষ করে তরুণদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে সামাজিক মাধ্যমে সময় কাটানোই সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি। যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রোল করা। ফলে ঘুম, পড়াশোনা, কাজ ও মানব সম্পর্ক পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি এমন আসক্তিতে বাড়তে পারে মানসিক চাপ, একাকিত্ব ও বিষণ্নতা।
কেপিওসের গত অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, আগের এক বছরে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে ২৫ কোটি ৬০ লাখ নতুন ব্যবহারকারী এটি ব্যবহার করতে শুরু করেছে। এছাড়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি মাসে বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে।
অ্যাডিকশনহেল্পডটকমের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে আসক্তিতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে কিশোর ও তরুণরা। অনেক সময় তারা মনে করে যে অনলাইনে না থাকার অর্থ গুরুত্বপূর্ণ কিছু জানতে না পারা, যা ফোমো বা ‘ফিয়ার অব মিসিং আউট’ হিসেবে পরিচিত। এ আশঙ্কাই তাদের ঘন ঘন সামাজিক মাধ্যমে থাকতে বাধ্য করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, গড়ে একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী প্রতি মাসে প্রায় সাতটি ভিন্ন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে এবং প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যয় করে দিনের অনেকটা সময়। এর মধ্যে কিশোর-কিশোরী ও তরুণরা প্রতিদিন গড়ে ৭ ঘণ্টা ২২ মিনিট ও ৮-১২ বছর বয়সী শিশুরা গড়ে ৪ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট স্ক্রিনের সামনে (সোশ্যাল মিডিয়া) কাটায়। অতিরিক্ত স্ক্রিন-নির্ভরতা মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেন বিশেষজ্ঞরা। অনবরত স্ক্রোল ও তাৎক্ষণিক ভালো লাগার অনুভূতি দেয়ায় সামাজিক মাধ্যম আসক্তিতে ফেলছে অনেককে। ফলে উঠতি বয়সীদের আচরণ ও চিন্তাধারা স্থায়ীভাবে বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকের। এমনকি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে প্রায় ৮২ শতাংশ জেনারেশন জেড (জেনজি) নিজেরাই মনে করে তারা সামাজিক মাধ্যমে আসক্ত।
যদি সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মের মধ্যে কোনটি সবচেয়ে বেশি আসক্ত করে তা বলা কিছুটা কঠিন। কিন্তু তথ্য বলছে, ইউটিউব ও ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি সময় কাটাচ্ছে ব্যবহারকারীরা। তার পরই রয়েছে টুইটার, পিন্টারেস্ট, লিংকডইন ও ইনস্টাগ্রাম।










