জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার ও পরিধি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সেই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি খাত নিয়েও শঙ্কা বাড়ছে। আর তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক (এআই) ঝুঁকি পর্যালোচনায় ও এর ইতিবাচক দিক নির্ধারণে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাইডেন প্রশাসন। এ উদ্যোগে যুক্ত হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে অ্যাডোবি, আইবিএম, এনভিডিয়া, পালান্টির ও সেলসফোর্সসহ বিখ্যাত প্রযুক্তি কোম্পানি।

টেকটাইমসে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, গত জুলাইয়ে বাইডেন প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপদ, বিশ্বাসযোগ্য উন্নয়নে সাতটি এআই ফার্মের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিশ্চিত করেছে। চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সচিব গিনা রাইমন্ডো, হোয়াইট হাউজ চিফ জেফ জিয়েন্টস ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আট এআই কোম্পানির প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ করেন।

অ্যাডোবি, কোহেয়ার, আইবিএম, এনভিডিয়া, পালানটির, সেলসফোর্স, স্কেল এআই ও স্ট্যাবিলিটি জুলাইয়ে প্রতিশ্রুতি দেয়া প্রথম সাতটি কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সম্মিলিতভাবে কোম্পানিগুলো এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতে ও ইতিবাচক গবেষণায় কাজ করবে। এসব প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকারনামায় শিগগিরই হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করা হবে।

এআই ফার্মগুলো বেশকিছু বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জনসাধারণের জন্য উন্মোচনের আগে পণ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রথমে রয়েছে। অঙ্গীকার করা কোম্পানিগুলো গ্রাহকের ব্যবহারের জন্য চালুর আগে এআই সিস্টেম বারবার পরীক্ষা করবে। স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞরা এ পরীক্ষা চালাবে। এছাড়া পরীক্ষণের সময় খাতসংশ্লিষ্ট, সরকার, সিভিল সোসাইটি ও একাডেমিয়ার সঙ্গে এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবেলাসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান করবে।

দ্বিতীয়টি হচ্ছে যেকোনো সিস্টেম তৈরির মূল হবে নিরাপত্তা। কোম্পানিগুলো সাইবার নিরাপত্তা ও ইনসাইডার থ্রেট মোকাবেলায় বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে। এর মাধ্যমে নিজস্ব সম্পদ ও অপ্রকাশিত পণ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া তৃতীয় কোনো পক্ষের মাধ্যমে এআই সিস্টেমে থাকা দুর্বল দিক শনাক্তেও কোম্পানিগুলো কাজ করবে।

জনগণ বা ব্যবহারকারীদের বিশ্বাস অর্জনের বিষয়টি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এআই যখন ওয়াটারমার্কিং প্রযুক্তিতে যদি কোনো কনটেন্ট তৈরি করে থাকে তখন সে বিষয়ে কোম্পানিগুলো সতর্ক করবে। এজন্য বিশ্বাসযোগ্য টেকনিক্যাল সিস্টেম তৈরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এ পদক্ষেপটি উদ্ভাবন এবং দক্ষতাকে লালন এবং প্রতারণার সম্ভাবনা কমাতে সহায়তা করবে। এছাড়া কোম্পানিগুলো তাদের এআই সিস্টেমের সক্ষমতা, বিধিনিষেধ এবং সব ধরনের অ্যাপ্লিকেশনের বিষয়ে প্রকাশ্যে যোগাযোগ করবে।

কোম্পানিগুলো এআই সিস্টেমের সঙ্গে সম্পর্কিত সম্ভাব্য সামাজিক বিপদ বা সমস্যা নিয়ে গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে। তাদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য পক্ষপাত ও বৈষম্য হ্রাস এবং গোপনীয়তা বজায় রাখা। গত জুলাইয়ে অ্যামাজন, অ্যানথ্রোপিক, গুগল, ইনফ্লেকশন, মেটা, মাইক্রোসফট ও ওপেনএআই হোয়াইট হাউজ পরিদর্শন করে এবং এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে স্বেচ্ছায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানায়। 

প্রযুক্তিবিশারদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, এআইয়ের বিকাশে কাঠামো তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে ক্ষতির হার কমানোর পাশাপাশি সম্ভাবনাময় এ প্রযুক্তিকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের বিষয়ে গবেষণা করা যাবে।