হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের নতুন ফোল্ডেবল ল্যাপটপ ‘মেটবুক ফোল্ড’-এ ব্যবহৃত হয়েছে এসএমআইসি নির্মিত পুরনো প্রজন্মের একটি চিপ। যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি বিধিনিষেধের কারণে চীনের শীর্ষ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি নতুন প্রজন্মের আধুনিক চিপ তৈরির পথে বাধার মুখে পড়েছে। কানাডাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেকইনসাইটসের প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স।
নিজেদের প্রথম পিসির পাশাপাশি গত মাসে ১৮ ইঞ্চির মেটবুক ফোল্ড উন্মোচন করে হুয়াওয়ে। মেটবুক ফোল্ডের সঙ্গে কোনো ফিজিক্যাল কিবোর্ড দেয়া নেই। এতে রয়েছে ১৮ ইঞ্চির ওএলইডি ডাবল স্ক্রিন। ডিভাইসটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ফোল্ডেবল স্ক্রিনযুক্ত পিসি বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির। প্রযুক্তি খাতে অনেকে ধারণা করেছিলেন, এ ল্যাপটপে এসএমআইসি নির্মিত নতুন প্রজন্মের ৫ ন্যানোমিটার ‘এন+৩’ চিপ ব্যবহার হবে।
টেকইনসাইটসের মতে, ডিভাইসটি হুয়াওয়ের ‘ফুল-স্ট্যাক কম্পিউটিং’-এ সবচেয়ে বড় ও সাহসী পদক্ষেপ। ফুল-স্ট্যাক কম্পিউটিং বলতে একটি প্রযুক্তিপণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের উপাদান নিজেরা তৈরি ও নিয়ন্ত্রণ করাকে বোঝায়। তবে গবেষণা বলছে, প্রত্যাশিত নতুন চিপের পরিবর্তে ল্যাপটপটিতে ব্যবহার হয়েছে পুরনো প্রজন্মের কিরিন এক্স৯০ চিপ। এতে ব্যবহৃত ৭ ন্যানোমিটার প্রযুক্তি প্রথম চালু হয় ২০২৩ সালের আগস্টে।
বিশেষজ্ঞরা এ থেকে ধারণা করছেন, এসএমআইসি হয়তো এখনো বড় পরিসরে ৫ ন্যানোমিটারের চিপ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি।
টেকইনসাইটস আরো জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা এখনো এসএমআইসিকে মোবাইল, পিসি এবং ক্লাউড/এআই ব্যবহারে উন্নতমানের চিপ তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্বসেরা নির্মাতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে বাধা দিচ্ছে।
গত মাসে উন্মোচিত হুয়াওয়ের দুটি ল্যাপটপই কোম্পানির নিজস্ব হারমোনি অপারেটিং সিস্টেমে চালিত প্রথম ডিভাইস। যদিও এতে ঠিক কোন প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি হুয়াওয়ে, তবে আগের মডেলগুলোয় ইন্টেলের চিপ ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, হুয়াওয়ের ৭ ন্যানোমিটার চিপ অ্যাপল, কোয়ালকম এবং এএমডির ব্যবহৃত চিপগুলোর তুলনায় বেশ কয়েক প্রজন্ম পিছিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেখানে টিএসএমসি ও ইন্টেল আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেখানে চীনের চিপ প্রযুক্তি এখনো বৈশ্বিক অগ্রগতির তুলনায় অন্তত তিন প্রজন্ম পিছিয়ে।










