ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের ওয়্যারহাউজ বা গুদামঘরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ১০ লাখের বেশি রোবট, যা কোম্পানির মানবশক্তির সংখ্যার প্রায় সমান। এসব রোবট পণ্য বাছাই, গুছিয়ে রাখা, প্যাকেজিং ও পরিবহনে সহায়তা করে এবং বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭৫ শতাংশ ডেলিভারিতে অংশ নেয়। খবর টেকরাডার।

অ্যামাজনের তথ্য ও বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১৫ লাখ জনবল কাজ করছেন। এর মধ্যে শুধু গুদাম বা ফুলফিলমেন্ট সেন্টারেই কর্মরত প্রায় ১২ লাখ কর্মী।

অ্যামাজন বলছে, রোবটের কারণে মানুষের কর্মসংস্থান পুরোপুরি কমেনি বরং দক্ষতা বেড়েছে। গত এক দশকে একজন কর্মী যেখানে আগে গড়ে ১৭৫টি প্যাকেজ সামলাতেন, এখন সে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৭০। পাশাপাশি ছোট আকারের তাৎক্ষণিক পণ্য সরবরাহ কেন্দ্রে রোবটগুলো বিশেষ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এসব জায়গায় কর্মীর সংখ্যা কম এবং উৎপাদন বাড়ানোর চাহিদা বেশি। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, প্রচলিত ওয়্যারহাউজের তুলনায় সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় স্থাপনাগুলোয় পণ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রায় ২৫ শতাংশ দ্রুত হয়।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুযায়ী, নতুন এআই প্রযুক্তি চালুর পর অ্যামাজনের রোবট বহরের কার্যকারিতা ১০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে গুদামজুড়ে রোবটের চলাচল সহজ হয়েছে এবং সামগ্রিক কার্যপ্রবাহ হয়েছে আরো সুসংগঠিত।

এছাড়া রোবট পরিচালনার জন্য অ্যামাজন সম্প্রতি চালু করেছে ডিপফ্লিট নামের একটি এআইভিত্তিক ফাউন্ডেশন মডেল। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে একাধিক রোবটের চলাচল ও কাজের সমন্বয় আরো সুচারুভাবে করা সম্ভব হচ্ছে।

অ্যামাজন রোবোটিকসের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কট ড্রেসার জানিয়েছেন, রোবট ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি ২০১৯ সালের পর অ্যামাজনে সাত লাখের বেশি কর্মী রোবোটিকস, ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেইনটেন্যান্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। অর্থাৎ মানবশক্তির প্রয়োজন কমে যাওয়ার বদলে অ্যামাজনে কর্মীদের ভূমিকা বদলাচ্ছে ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে।

ডেলিভারি সেবার গণ্ডি পেরিয়ে রোবট ব্যবহারে অনেক দূর এগিয়ে গেছে অ্যামাজন। বিশ্বজুড়ে লাখো কর্মীর সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করছে অ্যামাজনের রোবটগুলো। এছাড়া শুধু নিজস্ব কাজে নয়, অ্যামাজন এবার বাড়িতে ব্যবহারের উপযোগী রোবট বিক্রি করতে চায় সাধারণ গ্রাহকদের জন্যও। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি এমন পথে এগোচ্ছে যেখানে অচিরেই রোবটের সংখ্যা মানুষের চেয়ে বেশি হতে পারে।