অনলাইন শপিং বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কর্মব্যস্ত জীবনে সময় স্বল্পতার কারণে অনেকেই কেনাকাটার জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট, অ্যাপ কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন। সময়ের সঙ্গে কয়েক বছর ধরেই অনলাইন কেনাকাটা অনেকের জীবনেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে কেনাকাটায় সুবিধা হলেও অনলাইন প্লাটফর্ম হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে অনলাইন শপিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। বিশেষ করে পণ্যগুলো সময়মতো পৌঁছবে কিনা, প্রত্যাশিত গুণমান ঠিক থাকবে কিনা, পণ্যটি ছবির সঙ্গে মিলছে কিনা। সেজন্য অনলাইন শপিং নিরাপদ করতে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে ওয়েবরুট। 

ডিভাইসটি সুরক্ষিত রাখা: যে ডিভাইসগুলো ব্যবহার করে কেনাকাটা করা হয় যেমন কম্পিউটার বা স্মার্টফোন, সেগুলোতে নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার ইনস্টল থাকা প্রয়োজন। তা না হলে ক্রেতার আর্থিক তথ্য ও পাসওয়ার্ড চুরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট নির্বাচন: অনলাইনে কেনাকাটার জন্য অপরিচিত কোনো ওয়েবসাইট, একদম নতুন কোনো সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ব্যবহার না করাই উত্তম। ভালো রেটিংস ও রিভিউ রয়েছে এমন প্লাটফর্ম যাচাই করে ব্যবহার করতে হবে। গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, জালিয়াতি বা অনলাইন স্ক্যামের দুই-তৃতীয়াংশই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত হয়। 

অতিরিক্ত আকর্ষণীয় অফারগুলো এড়িয়ে চলা: যেকোনো ই-স্টোর, যারা খুব কম মূল্যে দামি ব্র্যান্ডের পণ্য দিচ্ছে কিংবা অনেক বেশি অফার দিচ্ছে, সেগুলো সন্দেহজনক ধরে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। এমনো হতে পারে আইটেমগুলো দামি ব্র্যান্ডের নকল অথবা সস্তা রেপ্লিকা।

গিফট কার্ডের টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন দেখা: যদি গিফট কার্ডটি অন্য কারো জন্য হয়, তবে নিশ্চিত করা ভালো যে পণ্য ক্রয়ের প্লাটফর্মটি বৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবহারকারী সেখানে কেনাকাটা করেন। 

ভিন্নধর্মী পাসওয়ার্ড তৈরি করা: অনলাইন কেনাকাটার সময় ওয়েবসাইট থেকে প্রায়ই পাসওয়ার্ড দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে বলা হয়। যদি প্রায়ই ই-স্টোরটি ব্যবহার না করা হয়, সেক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট তৈরির প্রয়োজন নেই। আর যদি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়, তবে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

ওয়েবসাইট নিরাপদ কিনা: ওয়েবসাইটটি সুরক্ষিত কিনা তা নিশ্চিত করতে দেখতে হবে ইউআরএলে ‘https://’ বা অ্যাড্রেস বারে প্যাডলক আইকন আছে কিনা।

কোম্পানির ডেলিভারি তথ্য জেনে নেয়া: পণ্য কয়দিনের মধ্যে ডেলিভারি দেয়া হবে, পেমেন্ট সিস্টেম কেমন, পণ্য ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের নিয়ম কী এ বিষয়গুলো নিশ্চিত হতে হবে। 

এছাড়া অনলাইন শপিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকা, ক্যাশ অন ডেলিভারি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো খেয়াল রাখা প্রয়োজন। লয়েডস ব্যাংকিং গ্রুপ পরিচালিত ২০২৩ সালের এক জরিপ সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম বর্তমানে অনলাইন শপিং স্ক্যামের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। লয়েডসের এক জরিপে জোর দিয়ে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোক্তারা আসল প্রোফাইল ও বিজ্ঞাপনে দেখানো বিষয় শনাক্তে হিমশিম খায়। আর এসব কারণে স্ক্যামাররা সহজেই আক্রমণ করতে পারে। পোশাক, প্রশিক্ষক, গেমিং কনসোল ও সেলফোনের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি স্ক্যাম কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।