কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) পরিধি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিভিন্ন খাতে এর ব্যবহারও শুরু হয়েছে। গেমিং খাতকে এআইয়ের চূড়ান্ত বিকাশের মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রযুক্তিবিশারদরাও। শিগগিরই শুরু হবে টোকিও গেম শো ২০২৩। এখানেও সবার নজর থাকবে ভিডিও গেমসের দিকেই। তবে এ আয়োজনের আগে ভিন্ন সুরে কথা বলছে জাপানের বেশকিছু শীর্ষ গেম নির্মাতা। তাদের ভাষ্য গেমের উন্নয়নে জেনারেটিভ এআই, ভার্চুয়াল বা অগমেন্টেড রিয়ালিটি হেডসেট এখনো সেভাবে তৈরি হয়ে ওঠেনি।

সিএনবিসিতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, জাপানের কোএই টেকমোর মতো গেম ডেভেলপাররা দীর্ঘদিন থেকে পুরনো অ্যালগরিদমিক এআই ব্যবহার করে আসছে। এক সাক্ষাৎকারে কোএই টেকমো গেমসের চিফ অপারেটিং অফিসার ও প্রেসিডেন্ট হিসাশি কোইনুমা জানান, গেমের উন্নয়নে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার এখনো কঠিন।

তিনি বলেন, ‘পণ্য বা পরিষেবায় জেনারেটিভ এআই যুক্ত করার পর্যায়ে আমরা এখনো পৌঁছাইনি। তবে ভবিষ্যতে এটি নিয়ে কাজ করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা চলমান।’

হিসাশি কোইনুমা বলেন, ‘জেনারেটিভ এআই কীভাবে গেম তৈরিতে ও এর উন্নয়নে সহায়তা করবে সে বিষয়ে এখন গবেষণা ও জরিপ পরিচালিত হচ্ছে। এর সঙ্গে কপিরাইট বা স্বত্বাধিকারীর বিষয়ও রয়েছে।’ 

কোএই টেকমোই যে শুধু কপিরাইটের বিষয়টি প্রকাশ করেছে তা নয়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে, কোপাইলটের ব্যবহারকারীদের মাইক্রোসফট জানায়, এর জেনারেটিভ এআই পরিষেবা যদি কোনো কপিরাইট লঙ্ঘন করে তাহলে কোম্পানি আইনি লড়াইয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। গেমিং খাতে এর সম্ভাবনা আরো বেশি।

আগস্টে এনভিডিয়া এইস ও নেমো স্টিয়ারএলএমের মাধ্যমে গেমের বাইরের চরিত্রের সঙ্গে গেমারদের যোগাযোগ তৈরির পদ্ধতি উপস্থাপন করে। একে এআইনির্ভর ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ ইন্টারর‍্যাকশনের মাধ্যমে নন-প্লেয়েবল ক্যারেক্টার বা চরিত্রে বুদ্ধিমত্তা যুক্তের পদ্ধতি হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গেমিং খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

গেমিং খাতের উন্নয়নে জেনারেটিভ এআইকে নতুন সীমানা ভাবা হলেও ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) ও অগমেন্টেড রিয়ালিটি (এআর) ডিভাইসের উন্নয়নও যুক্ত। এর মধ্যে গত প্রান্তিকে ভিশন প্রো হেডসেট উন্মোচন করে অ্যাপল। অন্যদিকে কোয়েস্ট লাইন এর সব পণ্যের উন্নয়নে কাজ করছে মেটা। এছাড়া সনি ভিআর২ উন্মোচন করেছে। নির্মাতাদের মতে, বর্তমানে যেসব গেম রয়েছে সেগুলোর অধিকাংশ নতুন ডিভাইসগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কোইনুমা বলেন, ‘ভিআর গেমস তৈরিতে আমাদের কোম্পানিই প্রথম চেষ্টা চালিয়েছে। তবে এটি এখনো প্রারম্ভিক পর্যায়ে। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিশেষ করে বর্তমানে যেসব ডিভাইস রয়েছে সেগুলোয় দীর্ঘসময় গেম খেলা সম্ভব না।’

কোইনুমা আরো বলেন, ‘আমরা অনুমান করতে পেরেছি, বর্তমানে যেসব ডিভাইস রয়েছে সেগুলো পরিপূর্ণ বিনোদন দিতে সক্ষম নয়। যে কারণে ভিআর, মেটা বা অন্য যেকোনো প্লাটফর্মই হোক না কেন পরিপূর্ণভাবে এআইয়ের বিকাশ না হলে সেখানে সফলতা পাওয়া যাবে না। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে দীর্ঘ সময় গেম খেলার সুবিধা পাওয়া। সেটি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ডেভেলপারই আর পরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় যাবে না।