কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণ ডাটা সম্পর্কিত মামলায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করেছিল নিউইয়র্ক টাইমস ও অন্যান্য প্রধান কয়েকটি সংবাদপত্র। তবে দুর্ঘটনাবশত ওপেনএআইয়ের প্রকৌশলীরা এসব প্রমাণ মুছে ফেলেছেন বলে অভিযোগ করেছে সংবাদমাধ্যমগুলো। খবর দ্য ভার্জ।

সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, তাদের আইনি দল ওপেনএআইয়ের এআই প্রশিক্ষণ ডাটা অনুসন্ধানে ১৫০ ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করেছে। এসব ডাটায় সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদনও অন্তর্ভুক্ত। তবে প্রমাণ মুছে ফেলার ভুল কীভাবে হলো বা ডাটায় সুনির্দিষ্টভাবে কী ছিল তা উল্লেখ করা হয়নি। ওপেনএআই অবশ্য নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে এবং ডাটা পুনরুদ্ধারে চেষ্টা করেছে। তবে তারা যা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে তা অসম্পূর্ণ ও অনির্ভরযোগ্য। ফলে ওপেনএআইয়ের এআই মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল তা প্রমাণ করতে এসব তথ্য ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

ওপেনএআইয়ের আইনজীবীরা ডাটা মুছে যাওয়ার ঘটনাটিকে ‘ত্রুটি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং নিউইয়র্ক টাইমসের আইনজীবীরা বলছেন যে এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে করা হয়েছিল বলে মনে করার কোনো কারণ নেই।

গত ডিসেম্বরে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস কোম্পানি মামলা করে। অভিযোগ করা হয়, ওপেনএআই ও এর অংশীদার মাইক্রোসফট নিজেদের এআই টুল তৈরি করতে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রকাশিত লাখ লাখ আর্টিকেল ব্যবহার ও অনুলিপি করেছে। তাদের দাবি, এসব টুল এখন সরাসরি তাদের কনটেন্টের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। প্রকাশনাগুলোর অনুলিপির অভিযোগ এনে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ওপেনএআইয়ের কাছ থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার দাবি করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।

দ্য টাইমস এরই মধ্যে আদালতে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে। অন্যদিকে সম্পূর্ণ পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য আদালতকে অবহিত করতে নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেনএআই। সংবাদপত্রগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী অ্যাটর্নি জেনিফার মেইসেল এ ঘোষণা দাখিল করেন এবং যা ঘটেছে সে সম্পর্কে আদালতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেন।

দ্য ভার্জকে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র জেসন ডিউট্রম বলেন, ‘পরিস্থিতি যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি একমত নয় এবং শিগগিরই উত্তর দাখিলের পরিকল্পনা করছে তারা।