২০১২ সালের এপ্রিলে ইনস্টাগ্রামকে কিনে নেয় ফেসবুক। এর দুই বছর পর ২০১৪ সালের অক্টোবরে হোয়াটসঅ্যাপ কিনে পরিসর বৃদ্ধি করে জনপ্রিয় এ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। মাধ্যম দুটি অধিগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার অভিযোগ এনে ফেসবুক ভেঙে দিতে ২০২০ সালে মামলা করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি)। বুধবার ওয়াশিংটনে ফেসবুকের প্রধান কোম্পানি মেটা প্লাটফর্মস ইনকরপোরেটেডকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে রায় দেয়া হয়েছে। খবর রয়টার্স।
ফেসবুকের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছিল তা খারিজের আবেদন করে মেটা। কিন্তু বিচারক জেমস বোসবার্গ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানান, মেটাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
বিচারক বোসবার্গ এফটিসির প্রধান অভিযোগ বহাল রাখলেও একটি অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। তা হলো তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ডেভেলপাররা ফেসবুকের মূল পরিষেবার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার শর্তে প্লাটফর্মে প্রবেশাধিকার পাবে। রাজি না হলে তাদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হবে। এভাবে বাজারে আধিপত্য বাড়িয়েছে ফেসবুক।
বুধবার মেটার এক মুখপাত্র বলেন, ‘ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ অধিগ্রহণ প্রতিযোগিতা ও ব্যবহারকারীদের জন্য যে ভালো সিদ্ধান্ত ছিল তা বিচারে প্রমাণ হওয়ার বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’ ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে দায়ের করা ও বাইডেন প্রশাসনের অধীনে পরিমার্জিত এ মামলা সম্পর্কে এফটিসির মুখপাত্র ডগলাস ফারার বলেন, ‘মামলাটি মেটার একচেটিয়া ক্ষমতা হ্রাস এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইকোসিস্টেমে স্বাধীনতা ও উদ্ভাবন নিশ্চিত করতে প্রতিযোগিতা পুনরুদ্ধারের দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার প্রতিনিধিত্ব করে।’
বিচারক বোসবার্গ রায়ে বলেন, ‘বিচারের সময় অ্যাপল ও গুগলের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে হোয়াটসঅ্যাপ অধিগ্রহণ করে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি দেয়ার অনুমতি দেয়া হবে না।’ বিচারককে পুরো মামলা খারিজ করার আহ্বান জানিয়ে মেটা বলেছে, সোশ্যাল মিডিয়া বাজারের খুব সংকীর্ণ দিকে মনোনিবেশ করেছিল এফটিসি। মেটার দাবি, এ মামলায় বাইটড্যান্সের মালিকানাধীন টিকটক, গুগলের মালিকানাধীন ইউটিউব, এক্স (সাবেক টুইটার) ও মাইক্রোসফটের মালিকানাধীন লিংকডইনের মতো অন্যান্য প্লাটফর্মের প্রতিযোগিতার বিষয় উপেক্ষা করা হয়েছে।
মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরুর তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ফেসবুকের প্রধান কোম্পানি হিসেবে মেটার আত্মপ্রকাশ ঘটে।










