অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে অ্যান্ড্রয়েডে বিভিন্ন ফিচার রয়েছে। অ্যাপ ব্যবহার থেকে শুরু করে ডেভেলপারদের জন্যও সুবিধা রয়েছে। তবে কে সেরা এ বিতর্কে বেশকিছু দিক থেকে আইওএসই এগিয়ে। মেক ইউজ অব সূত্রে এমন বেশকিছু ফিচারের বিষয়ে জানা গেছে। 

এয়ারপ্লে: অ্যান্ড্রয়েডে বিভিন্ন ফিচার থাকলেও অডিও-ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের জন্য আইওএসের মতো এয়ারপ্লে নেই। তবে গুগল অনুরূপ ফিচার আনতে কাজ করছে। এর আগে ২০২০ সালে এয়ারড্রপের মতো সুবিধা দিতে গুগল নিয়ারবাই শেয়ার ফিচার চালু করে। 

ফেসটাইম: আইওএস, আইপ্যাডওএস ও ম্যাকওএস চালিত ডিভাইসে বিল্ট ইন ফিচার হিসেবে ভিডিও কলিংয়ের জন্য ফেসটাইম অ্যাপ দিয়ে থাকে অ্যাপল। অ্যাপলের ব্যবহারকারীদের কাছে ফিচারটি বেশ জনপ্রিয়। ওয়েবে ব্যবহারের সুবিধা থাকায় অ্যান্ড্রয়েডের ব্যবহারকারীরাও ফেসটাইমে যুক্ত হতে পারে। তবে এজন্য ইনভাইটেশন লিংকের প্রয়োজন হয়। অ্যান্ড্রয়েডে গুগল ডুও থাকলেও সবাই থার্ড পার্টি সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকে।

আইমেসেজ: এ ফিচার বা অ্যাপটির কারণে অধিকাংশ আইফোন ব্যবহারকারী অ্যান্ড্রয়েডে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করে না। কেননা বন্ধুদের মধ্যে অধিকাংশই যদি আইওএস ব্যবহারকারী হয় তাহলে অ্যান্ড্রয়েডে সুইচ করলে আইমেসেজ ব্যবহারের সুবিধা হারাতে হবে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজে মেসেজের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারে, গ্রুপ তৈরি করতে পারে।

ভিডিওতে লেখা যুক্ত বা শনাক্ত করা: আইওএস১৫-এর মাধ্যমে লাইভ টেক্সট ফিচার চালু করে অ্যাপল। যেখানে অ্যান্ড্রয়েডের গুগল লেন্সে আগে থেকেই এ ফিচার ছিল। তবে নতুন আপডেটের মাধ্যমে ভিডিওতে লেখা শনাক্তের ফিচার নিয়ে এসেছে অ্যাপল। অনলাইন লেকচার, টিউটোরিয়ালে ফিচারটি সহায়ক।

চেক ইন: আইওএস১৭-এর মাধ্যমে আইমেসেজে একটি নতুন ফিচার যুক্ত হয়েছে। সেটি হলো চেকইন। আইমেসেজে থাকা বন্ধু বা প্রিয়জনদের নিজের অবস্থান সম্পর্কে জানাতে ফিচারটি ব্যবহার করা যাবে। ব্যবহারকারীরা চাইলে নির্দিষ্ট লোকেশন বা সময়ভিত্তিক চেকইন নির্ধারণ করতে পারবে। নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছার সময় এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য প্রান্তে জানাবে।

নেমড্রপ: চলতি বছরের ডেভেলপার সম্মেলনে নেমড্রপ ফিচারের কথা জানিয়েছে অ্যাপল। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা একে অন্যের সঙ্গে কনটাক্ট বা নাম্বার আদান-প্রদান করতে পারবে। এটি ব্যবহারে দুটি আইফোনই আনলক অবস্থায় থাকতে হবে। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সমস্যা থাকবে না।

আইক্লাউডপ্লাসের মাধ্যমে ই-মেইল হাইড করা: ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে অ্যাপল বরাবরই কঠোর অবস্থানে থাকে। এর অংশ হিসেবে ২০২১ সালে আইক্লাউডপ্লাস পরিষেবা চালু করা হয়েছে। যেকোনো ওয়েবসাইটে সাইনআপ করার জন্য এটি বিভিন্ন নামে ই-মেইল তৈরির সুযোগ দিয়ে থাকে।

ফোকাস ফিল্টার: অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস দুই অপারেটিং সিস্টেমেই ফোকাস মোড রয়েছে। তবে ফিল্টার যুক্ত করার মাধ্যমে অ্যাপল আরো এক ধাপ এগিয়ে গেছে। ফোকাস ফিল্টারের মাধ্যমে সাফারি, মেসেজ, মেইল ও ক্যালেন্ডারসহ বিভিন্ন অ্যাপে ফোকাস মোড নির্ধারণ করা যাবে। অন্যদিকে গুগলের ফোকাস মোড অ্যাপ ব্যবহার বন্ধে ফোকাস মোড ব্যবহারের সুযোগ দেয়।

ব্যাটারি হেলথ বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা: অ্যান্ড্রয়েডে বড় ব্যাটারি দেয়া হলেও এতে আইওএসের মতো ব্যাটারির বর্তমান অবস্থা যাচাইয়ের কোনো উপায় নেই। যেখানে অ্যাপল বর্তমানে ডিভাইসের ব্যাটারি যাচাইয়ে হেলথ দেখার সুবিধা দেয়। ব্যাটারি হেলথ ৮০ শতাংশের নিচে নেমে গেলেই আইওএস থেকে তা পরিবর্তনের কথা বলা হয়।