জার্মানি পাঁচ বছরের মধ্যে তাদের ফাইভজি ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক থেকে চীনের হুয়াওয়ে ও জিটিইর তৈরি যন্ত্রাংশ সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কে চলমান টানাপড়েনের আরো অবনতি হতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর সিএনএন।
২০২৬ সালের মধ্যে ভোডাফোন, ডয়চে টেলিকম ও টেলিফোনিকার মতো মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটররা তাদের ৫জি কোর নেটওয়ার্ক থেকে যন্ত্রাংশ সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। কোর নেটওয়ার্কগুলো ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত এবং নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ এ যন্ত্রাংশগুলো অ্যাকসেস ও ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক থেকেও সরিয়ে নেয়া হবে। এগুলোর মধ্যে ট্রান্সমিশন লাইন ও টাওয়ারও থাকবে।
সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফাইজার বলেন, ‘এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবসায়িক অবস্থান থেকে জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা এবং আমরা আমাদের নাগরিক, সংস্থা ও রাষ্ট্রের যোগাযোগব্যবস্থা রক্ষা করছি। আমাদের অবশ্যই নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে হবে এবং অতীতের মতো একতরফা নির্ভরশীলতা এড়াতে হবে।’
একই বিবৃতিতে জার্মান সরকার নাশকতা ও গুপ্তচরবৃত্তির বিপদের পরিপ্রেক্ষিতে সুরক্ষিত ও স্থিতিস্থাপক টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। বিবৃতিটিতে ঝুঁকি ও নির্ভরতা এড়ানোর জন্য বিশ্বস্ত নির্মাতাদের ওপর নির্ভর করার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে হুয়াওয়ে বলেছে, তাদের প্রযুক্তিতে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে এমন কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ নেই। তারা গঠনমূলক এবং উপযুক্ত পদ্ধতিতে গ্রাহক ও অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। সাইবার নিরাপত্তার উন্নতি ও অগ্রগতি এবং জার্মানিতে মোবাইল নেটওয়ার্ক নির্মাণ ও এর ডিজিটালাইজেশনের বিষয় তুলে ধরা হবে। এক্ষেত্রে জিটিইর কোনো মন্তব্য নিতে পারেনি সিএনএন। গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে জার্মানিতে অবস্থিত চীনের দূতাবাস চীনা কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
বিবৃতিটিতে আরো বলা হয়েছে, জার্মানির এ পদক্ষেপ দুই পক্ষের পারস্পরিক আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে চীন ও ইউরোপের মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতাকেও প্রভাবিত করবে।










