তুষার চিতা থেকে শুরু করে সামুদ্রিক কচ্ছপ, বিশ্বজুড়ে হুমকির মুখে রয়েছে অনেক প্রাণী। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বন্যপ্রাণীর ব্যাপক ধ্বংসকে 'জৈবিক ধ্বংস' বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিপন্ন প্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে ব্যাপক গবেষণা চালাচ্ছেন তারা।

এরই ধারাবাহিকতায় পশুর জিনগত বৈচিত্র্য ধরে রাখতে এবং কাজে লাগাতে, মল ব্যবহার করা যায় কিনা তা নিয়ে গবেষণা করছেন অক্সফোর্ড ইউনির্ভাসিটির একদল বিজ্ঞানী। এই প্রকল্পটির নাম ‘পু জু’। এই প্রকল্পটি একটি সহজ ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অপাচ্য খাবার, ব্যাকটেরিয়া এবং পিত্তের পাশাপাশি, মলেও সেই প্রাণীর কোষ থাকে।

গবেষণায় জানা গেছে, মলত্যাগের প্রাথমিক পর্যায়ে কোষগুলো জীবিত থাকে। এরইমধ্যে ইঁদুর ও হাতির বিষ্ঠা থেকে জীবন্ত কোষ বিচ্ছিন্ন করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই কোষগুলো জিনগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।

rat dung

ইঁদুর ও হাতির বিষ্ঠা থেকে জীবন্ত কোষ বিচ্ছিন্ন করেছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: বিবিসি

এ বিষয়ে পু জু প্রজেক্টের প্রধান সুজানা উইলিয়ামস জানিয়েছেন, জেনেটিক রেসকিউ নামে পরিচিত এই পদ্ধতিটি বিভিন্ন রূপ নিতে পারে। প্রথমত, কোষ থেকে ডিএনএ বিশ্লেষণ করা যেতে পারে যাতে প্রাণীর জিনগত বৈচিত্র্য বোঝা যাবে। সেইসঙ্গে আরো একটি সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন সুজানা। তার মতে, অত্যাধুনিক সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মল থেকে প্রাপ্ত কোষ ব্যবহার করে প্রাণীর জন্মও দেয়া যাবে। সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি, যেমন ক্লোনিং বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) প্রাণীর প্রজনন সহায়তা করতে পারে। এর ফলে বিপন্ন প্রজাতির সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তাদের জেনেটিক বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

সহজভাবে বলতে গেলে, একটি পরীক্ষাগারে যৌনকোষ তৈরি করে, পৃথক প্রাণীদের একত্রিত না করেই একটি প্রজাতির জিনগত বৈচিত্র্যকে কাজে লাগানো সম্ভব। জেনেটিক উদ্ধারের জন্য বিপন্ন প্রজাতির কোষ এবং টিস্যুগুলোর জৈব ব্যাংকিং এরইমধ্যে যুক্তরাজ্যভিত্তিক নেচার'স সেফ থেকে শুরু করে সান দিয়েগোর ফ্রোজেন চিড়িয়াখানা পর্যন্ত বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা গ্রহণ করেছে।

এই পদ্ধতিটি ঐতিহ্যবাহী জীবন্ত কোষ সংগ্রহের অন্যান্য পদ্ধতিগুলোর তুলনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ। এটি বিশেষ করে বিপন্ন বা দূরবর্তী প্রাণীদের জন্য একটি বিকল্প পদ্ধতি। যেখানে প্রাণীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়াই মল থেকে জিনগত উপাদান সংগ্রহ করা যেতে পারে।