চ্যাটজিপিটি ও মাইক্রোসফট কোপাইলটের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট মডেলগুলো কর্মক্ষেত্রে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক মিডিয়া কোম্পানির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে কোপাইলটের তুলনায় ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটির আধিপত্য ক্রমেই বাড়ছে। খবর টেকরাডার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেক প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের কোপাইলট প্ল্যান কিনে নেয়ার পরও কর্মীদের এতে অভ্যস্ত করাতে হিমশিম খাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে ওষুধ কোম্পানি আমজেন প্রায় ২০ হাজার ব্যবহারকারীর জন্য মাইক্রোসফটের এআই পরিষেবাটি কিনেছিল প্রায় এক বছর আগে। কিন্তু এখনো প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ কর্মী চ্যাটজিপিটিই ব্যবহার করে যাচ্ছেন।

এমন প্রবণতা ওপেনএআই মডেলের ব্যবহার ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে আমজেন একমাত্র প্রতিষ্ঠান নয় যেখানে কোপাইলট ব্যবহারে কর্মীদের অনীহা দেখা দিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এক্ষেত্রে মাইক্রোসফটকে এড়িয়ে ওপেনএআইকে বেশি আগ্রাধিকার দিচ্ছেন। বেশির ভাগ কর্মী বাড়িতে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য চ্যাটজিপিটি বেছে নেন। তাদের জন্য কর্মক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করা সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যের।

মাইক্রোসফট কোপাইলটেও রয়েছে চ্যাটজিপিটির মতো নানা ফিচার। তবে চ্যাটজিপিটির ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও বড় সংখ্যক ব্যবহারকারী এ প্লাটফর্মকে আরো এগিয়ে নিচ্ছে। চলতি বছর জুন পর্যন্ত চ্যাটবটটির সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৮০ কোটিতে পৌঁছেছে, যেখানে ৩০ লাখের বেশি ব্যবসায়িক ব্যবহারকারী অর্থ দিয়ে এটি ব্যবহার করছেন। এর বিপরীতে কোপাইলটের ব্যবহার গত এক বছর ধরে প্রায় দুই কোটিতে আটকে আছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাইক্রোসফটের বিক্রয়কর্মীরা জানতেন, সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে চ্যাটজিপিটি সবচেয়ে জনপ্রিয় চ্যাটবট। কিন্তু মাইক্রোসফট যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে অনেক প্রতিষ্ঠানের আইটি বিভাগকে সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি সেবা দিয়ে এসেছে, তাই তারা ভেবেছিল কোপাইলট সহজেই কর্মক্ষেত্রে জনপ্রিয় হয়ে যাবে।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, মাইক্রোসফট যখন কোপাইলট বিক্রি শুরু করে, তখন অনেক অফিসকর্মী এরই মধ্যে বাসায় চ্যাটজিপিটিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। ফলে বাজারে আগে আসার সুবিধায় ওপেনএআই এগিয়ে যায়, যাকে বলা হয় ‘ফার্স্ট-মুভার সুবিধা’।