ভারতে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ফাইভজি ব্যবহারকারী ১১ শতাংশ বাড়বে। দেড় বছর আগে দেশটিকে বাণিজ্যিকভাবে পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিষেবা চালু করে রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেল। এরপর থেকে ব্যবহারকারী প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সম্প্রতি এরিকসন প্রকাশিত মবিলিটি প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খবর ইটি টেলিকম।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সাল শেষে ভারতে ফাইভজি ব্যবহারকারী ১৩ কোটি ও ২০২৯ সাল নাগাদ তা ৮৬ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। সুইডেনের টেলিকম পণ্য নির্মাতা কোম্পানি এরিকসন জানায়, ২০২৩ সালের পুরো সময় ভারতে ফাইভজি সাবস্ক্রিপশন দ্রুত বেড়েছে। ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালুর ১৪ মাস পর বা বছর শেষে দেশটিতে এটি গ্রহণের হার ১১ শতাংশ বাড়বে। মূলত ফাইভজি সেলফোন ব্যবহারকারী বাড়ায় নেটওয়ার্কের পরিধিও বাড়ছে।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পুরো দেশে ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালুর কাজ শেষ করবে জিও ও এয়ারটেল। তৃতীয় স্থানে থাকা ভোডাফোন এখনো বাণিজ্যিকভাবে ফাইভজি পরিষেবা চালু করেনি। এ সময়ের মধ্যে ভারতে সাবস্ক্রিপশনের পাশাপাশি মোবাইল ডাটা ব্যবহারের শীর্ষে রয়েছে ফোরজি নেটওয়ার্ক। প্রযুক্তিবিশারদদের মতে, বর্তমানে গ্রাহক ফোরজি থেকে ফাইভজিতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। যে কারণে ২০২৩ সালে এর সাবস্ক্রাইবার ৮৭ কোটি থাকলেও ২০২৯ সাল নাগাদ ৩৯ কোটিতে নেমে আসবে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে অঞ্চলটিতে মোবাইল সাবস্ক্রিপশন ১২৭ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

এরিকসন ইন্ডিয়ার প্রধান নিতিন বানসাল বলেন, ‘সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অংশে দ্রুতগতির ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালু করেছে এরিকসন। বর্তমানে ভারত ফাইভজি গ্রহণের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে। বৈশ্বিক পর্যায়ে আমাদের যে অভিজ্ঞতা ও নেতৃস্থানীয় পর্যায় রয়েছে সেটিই ভারতে ফাইভজি যাত্রায় সহায়তার জন্য এগিয়ে রেখেছে।’

বৈশ্বিক হিসাবে সেলফোনে ডাটা ব্যবহারের দিক থেকে শীর্ষে ভারত। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে মাসিক ডাটা ব্যবহার ৩১ জিবি হলেও ২০২৯ সাল নাগাদ তা ৭৫ জিবি ছাড়িয়ে যাবে। মোট মোবাইল সাবস্ক্রিপশনের দিক থেকে ২০২৯ সাল নাগাদ হার ৯৩ শতাংশে উন্নীত হবে। অঞ্চল হিসেবে উত্তর আমেরিকায় ফাইভজি গ্রহণের হার সবচেয়ে বেশি। চলতি বছর শেষে অঞ্চলটিতে ফাইভজি গ্রহণের হার ৬১ শতাংশে উন্নীত হবে বলে এরিকসন সূত্রে জানা গেছে।

মবিলিটি প্রতিবেদনে এরিকসন জানায়, ২০২৩-এর শেষে প্রতি পাঁচটির মধ্যে একটি মোবাইল সাবস্ক্রিপশন হবে ফাইভজি। এছাড়া বৈশ্বিক পর্যায়ে ২০২৩ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে ফাইজি নেটওয়ার্ক সাবস্ক্রিপশন হার ৩৩০ শতাংশ বেড়ে ১৬০ কোটি থেকে ৫৩০ কোটিতে উন্নীত হবে। এছাড়া চলতি বছর শেষে বিশ্বের ৪৫ শতাংশ অধিবাসী এবং ২০২৯ সাল নাগাদ ৮৫ শতাংশের কাছে পৌঁছে যাবে। এরিকসনের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও নেটওয়ার্কস বিভাগের প্রধান ফ্রেডরিক জেজডলিং বলেন, ‘চলতি বছর ৬০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী ফাইভজি নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে এর চাহিদা বাড়ছে। সে হিসেবে বলা যায়, উচ্চ সক্ষমতার কানেক্টিভিটির চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।’ ২০২৩-২৯ সালের শেষ পর্যন্ত মোবাইল ডাটা ব্যবহারকারীর সংখ্যা তিন গুণ বাড়বে বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।