শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে ইউনেস্কো। পাশাপাশি সংগঠনটি প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতি এবং প্রযুক্তিগত উপাদানগুলো একত্রে ব্যবহার করার ওপর জোর দিয়েছে। খবর টেকটাইমস।

ডিজিটালাইজড বিশ্বে নানা ধরনের প্রয়োজন তৈরি হয়, সেটাই প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতি এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মধ্যে ভারসাম্য তৈরিতে প্রভাব ফেলছে। তাই জ্ঞানার্জনের সঠিক ফল পেতে শিক্ষাপদ্ধতির একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করা দরকার বলে জানানো হয়।

জাতিসংঘের বিজ্ঞান, শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর গবেষণা বলছে, ডিজিটাল বিশ্বের সঙ্গে শিশুদের পরিচিত করাতে শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার খুবই কার্যকর। কিন্তু তার পরও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের এসব ডিভাইস অতিরিক্ত ব্যবহার করার বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। গবেষণায় ডিজিটাল শিক্ষায় প্রযুক্তির উপকারিতার বিষয়ে যথাযথ তথ্যের অভাবের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। যদিও বিশ্বজুড়ে শ্রেণিকক্ষে ল্যাপটপ এবং সেলফোনের ব্যবহার বাড়ছে। তবে তার অর্থ মোটেও এমন নয়, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন বাড়ছে। 

শিক্ষা ক্ষেত্রে জ্ঞানার্জন আরো উন্নত করার কাজে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে সেটা প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতির বিকল্প হিসেবে না। শিক্ষার্থীদের আরো বেশি সম্পৃক্ত এবং শিক্ষা আরো উন্নত করার জন্য গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্টের প্রধান মানস অ্যান্টনিনিস বলেন, ‘প্রযুক্তি এককরণের বিস্তৃত পদ্ধতির ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে, পাশাপাশি ধীরস্থির শিক্ষাগত কাঠামো এবং দক্ষ শিক্ষকতা নীতির সঙ্গে ডিজিটাল টুলগুলোকে আরো বেশি সম্পর্কিত হতে হবে।’

বিশ্বের প্রতি চারটি দেশের একটিতে নিয়ম বা নীতির প্রচলন করে স্কুলে সেলফোন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এ ধারা এখন বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এমনটা করার কারণ, এগুলো স্কুলের পরিবেশে বাধা তৈরি করে থাকে। এমনকি নেদারল্যান্ডসের মতো ধৈর্যশীল দেশও স্কুলে স্মার্টফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে কত ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।  

পড়াশোনা শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল নেভিগেশন বুঝতে সাহায্য করে আর এটা দিয়ে তারা অনলাইন প্রতারকদের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষাও গড়ে তোলে। কিন্তু প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হলে তা চোখে নাও পড়তে পারে। যারা পড়াশোনায় আগ্রহী তারা এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে দক্ষভাবে। প্রচলিত দক্ষতার সঙ্গে প্রযুক্তিগত দক্ষতা যুক্ত হলে শিক্ষার্থীরা জটিল অনলাইন জগতে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বাড়তি সহায়তা পায়।

শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার ভারসাম্যপূর্ণ করার জন্য শিক্ষকদেরই বেশি ভূমিকা পালন করতে হবে। সেজন্য তাদের প্রশিক্ষিত করার ওপরও জোর দিয়েছে ইউনেস্কো।