প্রযুক্তি বিশ্বে ১২ মার্চ একটি বিশেষ দিন। ১৯৮৯ সালের এ দিনে ইন্টারনেট ইতিহাসের অন্যতম বড় উদ্ভাবন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের ধারণা তৈরি হয়। শুধু ওয়েব বা ইন্টারনেটের জগৎ হিসেবে পরিচিতি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের বয়স এখন ৩৬ বছর।

ওয়েবসাইট খুললে ব্রাউজারের ঠিকানায় যে ‘www’ দেখা যায়, সেটিই ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব। ‘ক্লিক, কানেক্ট ও কমিউনিকেট’ ধারণার মাধ্যমে মানুষকে স্ক্রিনে বেঁধে রাখার এ প্রযুক্তি যতটা পুরনো মনে হয়, আসলে তা নয়। ইমেইলের তুলনায় ওয়েব ১৮ বছর ছোট, আর জিআইএফ থেকে দুই বছর নবীন।

১৯৯০ সালের শেষের দিকে ইউরোপের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সার্নে কর্মরত কম্পিউটার বিজ্ঞানী টিম বার্নার্স-লি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব আবিষ্কার করেন। প্রযুক্তিটি এখন প্রতিদিন ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে ব্যবহার হয়। এর আগে ১৯৮৯ সালের ১২ মার্চ টিম বার্নার্স-লি ‘ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট’ নামে একটি প্রস্তাব জমা দেন তার ঊর্ধ্বতনের কাছে। তিনি এমন একটি কম্পিউটারভিত্তিক সিস্টেমের ধারণা দেন, যেখানে মানুষ সহজে তথ্য লিখতে, সাজাতে ও একটির সঙ্গে আরেকটি যুক্ত করতে পারবে। যা এখন হাইপারটেক্সট নামে পরিচিত (যেমন: ওয়েবপেজে ক্লিক করা লিংক)। এ ধারণাই পরে হয়ে ওঠে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের ভিত্তি।

প্রথমে এ ওয়েব তৈরি হয়েছিল বিজ্ঞানীদের জন্য, যেন বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করা গবেষকরা খুব দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করতে পারেন। এরপরই টিম বার্নার্স-লি ও রবার্ট ক্যালিয়াউ একসঙ্গে তৈরি করেন প্রথম ওয়েব ব্রাউজার ও প্রথম ওয়েব সার্ভার। সেই সঙ্গে তারা কাজ করেন ওয়েবের মূল প্রযুক্তি নিয়ে, যেমন ইউআরএল (ওয়েব ঠিকানা), এইচটিটিপি (তথ্য আদান-প্রদানের পদ্ধতি) ও এইচটিএমএল (ওয়েবপেজ তৈরির ভাষা)। যদিও ওয়েবের শুরু ছিল পদার্থবিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণার হাতিয়ার হিসেবে, তবে এটি অন্যান্য ক্ষেত্রেও দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৯৩ সালে প্রযুক্তিটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। আজ ওয়েব শুধু তথ্য জানার মাধ্যম নয়, বরং এটি ইন্টারনেটের প্রতিশব্দ হয়ে উঠেছে।