বিশ্বব্যাপী ওয়েবসাইট রয়েছে ১১২ কোটি। তবে এর মধ্যে মাত্র ১৭ শতাংশ ওয়েবসাইট নিয়মিত ব্যবহার বা হালনাগাদ হয়। পাশাপাশি প্রতি বছর প্রায় নয় কোটি নতুন ওয়েবসাইট যুক্ত হচ্ছে ইন্টারনেটে। তবে ওয়েবসাইট যে শুধু বাড়ছেই তা নয়, অনেক ওয়েবসাইট প্রতিদিন নিষিদ্ধ ও বন্ধ হচ্ছে। অনলাইন ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সংস্থাটি বলছে, নতুন ওয়েবসাইট তৈরি ও পুরনো ওয়েবসাইট বন্ধ হওয়ার এ অবিরাম চক্রের কারণে মোট ওয়েবসাইটের সংখ্যা নিয়মিতভাবে পরিবর্তন হচ্ছে। তবে ২০২৪ সালের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, মোট ওয়েবসাইটের মধ্যে কেবল ১৯ কোটির মতো (১৭ শতাংশ) সক্রিয় আছে। বাকি ৮৩ শতাংশ ওয়েবসাইট বর্তমানে নিষ্ক্রিয়।

একটি ওয়েবসাইটে ভিজিটর বা দর্শনার্থী আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিজ্ঞাপন বা অন্যান্য লিংকের মাধ্যমে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ট্রাফিক আসে গুগল সার্চ থেকে। প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ভিজিট হয় গুগলের ওয়েবসাইটে। প্রতিদিন প্রায় ১৩ হাজার কোটিবারের বেশি ঢোকা হয় গুগল ডটকমে। এরপর সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হলো ইউটিউব ও ফেসবুক। গত কয়েক বছর এ তিন সাইটই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে এখন বেশির ভাগ মানুষ চলাফেরার সময় মোবাইল থেকে তথ্য অনুসন্ধান করেন। এ জন্য ওয়েবসাইডগুলোর মোবাইলে ব্যবহারযোগ্যতাও এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ডিমান্ডসেইজ বলছে, বিশ্বজুড়ে ২০ শতাংশ ওয়েবসাইট এখনো মোবাইল সুবিধাযুক্ত নয়। স্মার্টফোন ব্যবহারের দ্রুত বৃদ্ধি ও জনপ্রিয়তায় মোবাইল-ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট এখন বড় চাহিদা তৈরি করছে। এমনও দেখা যায়, মোবাইল-ফ্রেন্ডলি না হওয়ায় ব্যবহারকারীরা অনেক ওয়েবসাইট দ্রুত ত্যাগ করেন।

ওয়েবসাইটের পথচলা শুরু মূলত ওয়ার্ল্ডওয়াইড ওয়েব উদ্ভাবনের মাধ্যমেই। বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইটটি ছিল সার্নের একটি ওয়েবসাইট, যার নাম ছিল info.cern.ch। এটি তৈরি হয়েছিল ওয়ার্ল্ডওয়াইড ওয়েব প্রকল্পের বিষয়বস্তু বোঝাতে।

ইতিহাস বলছে, ১৯৯০ সালের শেষের দিকে ইউরোপের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সার্নে কর্মরত কম্পিউটার বিজ্ঞানী টিম বার্নার্স-লি ওয়ার্ল্ডওয়াইড ওয়েব আবিষ্কার করেন। প্রযুক্তিটি এখন প্রতিদিন ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে ব্যবহার হয়। এর আগে ১৯৮৯ সালের ১২ মার্চ টিম বার্নার্স-লি ‘ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট’ নামে একটি প্রস্তাব জমা দেন তার ঊর্ধ্বতনের কাছে। তিনি এমন একটি কম্পিউটারভিত্তিক সিস্টেমের ধারণা দেন, যেখানে মানুষ সহজে তথ্য লিখতে, সাজাতে ও একটির সঙ্গে আরেকটি যুক্ত করতে পারবে; যা এখন হাইপারটেক্সট নামে পরিচিত (যেমন ওয়েবপেজে ক্লিক করা লিংক)। এ ধারণাই পরে হয়ে ওঠে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের ভিত্তি।

প্রথমে এ ওয়েব তৈরি হয়েছিল বিজ্ঞানীদের জন্য, যেন বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করা গবেষকরা খুব দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করতে পারেন। ১৯৯৩ সালে প্রযুক্তিটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। আজ ওয়েব শুধু তথ্য জানার মাধ্যম নয়, বরং এটি ইন্টারনেটের প্রতিশব্দ হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়েবসাইট ও ওয়ার্ল্ডওয়াইড ওয়েবের সম্পর্ক অনেকটা বই ও গ্রন্থাগারের মতো। যেমন একটি গ্রন্থাগারে হাজারো বই থাকে, ঠিক তেমনি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবে লাখ লাখ ওয়েবসাইট থাকে। ওয়েব হলো সে, অবকাঠামো, যেখানে সাইটগুলো কাজ করে এবং ব্যবহারকারীদের সামনে উপস্থাপন হয়।