প্রথমবারের মতো কমেছে বিশ্বব্যাপী স্মার্টওয়াচ বিক্রি। গত বছর বাজারের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের স্মার্টওয়াচের জনপ্রিয়তা নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়া এ পতনের মূল কারণ। খবর বিবিসি।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ২০২৪ সালে স্মার্টওয়াচ বিক্রি হয়েছে ৭ শতাংশ কম। এ সময় অ্যাপল ওয়াচের বিক্রি কমেছে ১৯ শতাংশ। বিক্রির পতনের জন্য দুটি বিষয়কে দায়ী করেছে কাউন্টার পয়েন্টর। প্রথমত, অ্যাপলের নতুন ডিভাইসগুলোয় নতুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ফিচার না থাকা। দ্বিতীয়ত, গুঞ্জনের পরও হাই-এন্ড আলট্রা থ্রি মডেলটি বাজারে না আসা।

কাউন্টারপয়েন্টের জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিশ্লেষক অংশিকা জেন বলেন, ‘বিক্রির পতনের প্রধান কারণ ছিল উত্তর আমেরিকা, যেখানে আলট্রা তিন মডেলটি না থাকা এবং এস১০ সিরিজের মধ্যে সীমিত ফিচার আপগ্রেডের কারণে গ্রাহকরা নতুন স্মার্টওয়াচ কেনার সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেছেন।’

অ্যাপল ২০২৩ সালের শেষে ও গত বছরের শুরুতে রক্তের অক্সিজেন স্তর মনিটরিংসংক্রান্ত একটি বিতর্কিত পেটেন্টের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি ও আমদানি নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়। অংশিকা জেন জানান, এর ফলে ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) অ্যাপলের বিক্রি কমে যায়। ওই বছরের শেষ তিন মাসে অ্যাপলের বাজার হিস্যা ছিল ২২ শতাংশ, যা আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ কম।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিসিএস ইনসাইটের প্রধান বিশ্লেষক লিও গেবি বলেন, ‘আমরা এমন একটি সময় পার করেছি যেখানে স্মার্টওয়াচ একটি নতুন এবং আকর্ষণীয় গ্যাজেট থেকে এখন একটি স্থিতিশীল পণ্য হয়ে গেছে। ফিচারগুলো বছরে বছরে তেমন পরিবর্তিত হচ্ছে না।’

সামগ্রিকভাবে ওয়্যারেবল ডিভাইসটির পতনের পরও, গত বছর চীনা ব্র্যান্ড যেমন শাওমি, হুয়াওয়ে এবং ইমুর স্মার্টওয়াচ বিক্রি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালের শেষ প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর) থেকে শুরু করে গত বছর চীনে স্মার্টওয়াচ বিক্রি ১৯ থেকে বেড়ে ২৫ শতাংশ হয়েছে।

চীনা প্রস্তুতকারকরা গত বছর শিশুদের জন্য স্মার্টওয়াচের বাড়তি জনপ্রিয়তার সুবিধা নিয়েছে। ২০২৪ সালে বাজারের একমাত্র বৃদ্ধি পাওয়া বিভাগ ছিল এটি। চীনে ‘লিটল জিনিয়াস’ নামে পরিচিত ইমু স্মার্টওয়াচ ব্র্যান্ড এ সময় ২২ শতাংশ বেশি ডিভাইস বিক্রি করেছে।

কাউন্টারপয়েন্টের বলবীর সিং বলেন, ‘শিশুদের স্মার্টওয়াচ সেগমেন্টটি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, কারণ অভিভাবকরা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। তারা শিশুদের হাতে স্মার্টফোন না দিয়ে তাদের ওপর নজর রাখতে এবং সবসময় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চান। স্মার্টওয়াচ এ সুবিধাই দেয়।’

তবে ইমু বেইজিংভিত্তিক টেক কোম্পানি শাওমির ১৩৫ শতাংশ বিক্রি প্রবৃদ্ধি থেকে পিছিয়ে রয়েছে। কারণ শাওমির স্মার্ট ব্যান্ড অ্যাকটিভিটি ট্র্যাকারের দাম অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের তৈরি প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক কম।

বিশ্লেষক লিও গেবি আরো বলেন, ‘বড় কনজিউমার ইলেকট্রনিকস কোম্পানিগুলো, যেমন অ্যাপল ও স্যামসাং বেশি মুনাফার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। টেক জায়ান্টগুলো মূল্যযুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছে না। আর এ সুযোগটাই নিচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান শাওমি। বিশেষত দক্ষিণ ও পূর্ব ইউরোপের মতো অঞ্চলে, যেখানে কম দামের প্রতি গ্রাহকদের আকর্ষণ অনেক বেশি।’ কাউন্টারপয়েন্টের প্রত্যাশা, চলতি বছর কিছুটা পুনরুদ্ধার হবে বৈশ্বিক স্মার্টওয়াচের বাজার। এআই ফিচার ও স্বাস্থ্য তথ্যের আরো বিস্তৃত পরিসরের কারণে এ সময় বিক্রি বাড়বে।