চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বৈশ্বিক স্মার্টওয়াচের বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ৯ শতাংশ। এ সময় ডিভাইসটি বিক্রি হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ইউনিট। বিক্রি কমলেও গত প্রান্তিকে অ্যাপল ওয়াচের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। স্মার্টওয়াচের বাজারে ২১ শতাংশ হিস্যা নিয়ে শীর্ষে রয়েছে টেক জায়ান্টটি। এর পরই রয়েছে চীনের হুয়াওয়ে ও দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং। বাজার গবেষণা সংস্থা কাউন্টারপয়েন্টের বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণা সংস্থাটি বলছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া প্রান্তিকে স্মার্টওয়াচের বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে অ্যাপল ওয়াচ। এ বাজারে হুয়াওয়ে ও স্যামসাংয়ের হিস্যা যথাক্রমে ১৪ ও ১১ শতাংশ। আগের দুই প্রান্তিকেও যথাক্রমে ২১ ও ১৯ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে প্রথম অবস্থানে ছিল টেক জায়ান্টটি। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) শীর্ষে থাকা অ্যাপলের পর ১০ দশমিক ১ শতাংশ হিস্যা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারতীয় কোম্পানি ফায়ার-বোল্ট। এরপর জায়গা করে নিয়েছিল স্যামসাং ও হুয়াওয়ে।
কাউন্টারপয়েন্টের বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতীয় ব্র্যান্ড ফায়ার-বোল্ট স্মার্টওয়াচের বাজারে বেশ অল্প সময়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কোম্পানিটি ২০২৩ সালের শুরুতে ভারত থেকে বাইরের দেশে পণ্য রফতানি চালু করে। অন্যান্য ভারতীয় কোম্পানিও যেমন বোঅ্যাট অ্যান্ড নিয়েজ ও তাদের পণ্য অন্যান্য দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।
এ বছর সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী স্মার্টওয়াচ বাজারে ২৫ শতাংশ হিস্যা নিয়ে সর্বোচ্চ স্থান দখল করেছে ভারত। আগের বছরের তুলনায় স্মার্টওয়াচ বিক্রির সংখ্যায় গত প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি (২৪ শতাংশ)অর্জন করেছে চীন। এ সফলতায় প্রধান ভূমিকা ছিল হুয়াওয়ে ও শাওমির। স্মার্টওয়াচ সেগমেন্টে শীর্ষ ১০ ব্র্যান্ডের মধ্যে শাওমি ও হুয়াওয়ের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে দ্রুততম। তবে অ্যাপলের ওয়াচ এস১০ সিরিজের চাহিদা এস৯-এর তুলনায় কম হওয়ায় বছরওয়ারি হিসাবে কোম্পানিটির পারফরম্যান্স কমেছে ১৫ শতাংশ। এ সময় অ্যাপল, স্যামসাং ও গারমিনের মতো ব্র্যান্ডগুলোর জনপ্রিয়তার কারণে উত্তর আমেরিকায় এইচএলএস বা হাই-লেভেল অপারেটিং সিস্টেম স্মার্টওয়াচে চাহিদা বেড়েছে। গবেষণা সংস্থা এবিআই রিসার্চের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর শেষে স্মার্টওয়াচ বিক্রি প্রায় ১৭ কোটি ২০ লাখ ইউনিটে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরবর্তী পাঁচ বছর ধরে স্মার্টওয়াচ ওয়্যারেবল ডিভাইসের বাজারে শীর্ষস্থানে থাকবে, যেখানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকবে অ্যাপলের ওয়াচ সিরিজের। নতুন ফিচার ও সুবিধা যুক্ত করার পাশাপাশি বিশেষ করে ভারতের মতো উদীয়মান দেশগুলোয় স্মার্ট ওয়াচের বাজার বৃদ্ধির কারণে বড় ধরনের সফলতা আসতে পারে।
এবিআই রিসার্চ বলছে, স্মার্টওয়াচ বাজারে পরিবর্তন ঘটেছে। কভিড-১৯ মহামারীর সময় এসব ডিভাইসের চাহিদা দ্রুত বাড়ে। তবে স্মার্টওয়াচ বাজারের প্রবৃদ্ধি আগামী বছরগুলোয় ধীরে ধীরে কমে এসে আরো স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটির জুনের তথ্যানুযায়ী, গত বছর বিশ্বব্যাপী স্মার্টওয়াচের বিক্রি হয় ১৫ কোটি ২৮ লাখ ইউনিট। ২০২৪ সালে এটি ১২ শতাংশ বাড়বে। এছাড়া ২০২৯ সালের মধ্যে বাজারটি ২৩ কোটি ৫০ লাখ ইউনিটে পৌঁছতে পারে। এ সময় বাজারের বার্ষিক বৃদ্ধির হার হবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
স্মার্টওয়াচ বাজারের পূর্বাভাস মূলত ফিটনেস ও হেলথ ট্র্যাকিংয়ের বাড়তি চাহিদার ওপর ভিত্তি করে দেয়া হয়। নতুন ফিচার যেমন ভালো ব্যাটারি লাইফ, উন্নত ডিসপ্লে, ডিজাইন ও পাশাপাশি আরো সাশ্রয়ী দাম সামনে ডিভাসের বিক্রির হার আরো বাড়াতে সহায়তা করবে।










