দুই বছরের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত (এআই) তথ্য ফাঁসের ৪০ শতাংশের বেশি ঘটবে বিভিন্ন দেশে জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির ভুল বা নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারের কারণে। কানেকটিকাটভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গার্টনার প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। খবর টেকমনিটর।
সংস্থাটির মতে, যখন বিভিন্ন দেশে জেনারেটিভ এআই নিয়ন্ত্রণহীন বা অনৈতিকভাবে ব্যবহার হয়, তখন তাকে ‘ক্রস-বর্ডার’ অপব্যবহার বলা হচ্ছে। ফলে ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠান, এমনকি রাষ্ট্রের তথ্য ফাঁস, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা অন্য ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এটি বিশেষ করে তখন ঘটে, যখন এক দেশে তৈরি এআই মডেল বা ডাটা অন্য দেশে ভুলভাবে ব্যবহার হয়।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, জেনএআই প্রযুক্তির দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা এর নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা তৈরির গতিকে ছাড়িয়ে গেছে। এতে করে নিরাপত্তা ও ডাটা সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে তথ্য কোথায় সংরক্ষণ করা হবে, তা নিয়ে। গার্টনার বলছে, কোম্পানিগুলো এআই পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় কম্পিউটিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করায় বিভিন্ন দেশে তথ্য স্থানান্তরের ঝুঁকি বাড়ছে।
গার্টনারের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিশ্লেষক জোয়ার্গ ফ্রিটস বলেছেন, ‘সঠিক নজরদারির অভাবে অনেক সময় তথ্য অনিচ্ছাকৃতভাবে এক দেশ থেকে আরেক দেশে স্থানান্তর হয়। বিশেষ করে, স্পষ্ট নিয়ম ছাড়াই বিদ্যমান পণ্যে জেনারেটিভ এআই যুক্ত করা হলে এমনটা ঘটে।’
তিনি জানান, জেনএআই টুল ব্যবহারের ফলে কর্মীদের তৈরি কনটেন্টের ধরনে পরিবর্তন আসছে। যদিও এসব টুল ব্যবসায়িক কাজে উপকারী হতে পারে, তবে সংবেদনশীল পম্পট বা তথ্য অপরিচিত এআই সিস্টেম কিংবা এপিআইতে (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) পাঠানো হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
গার্টনার আরো জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে একক কোনো নিয়ম বা আইন নেই, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও আইনি দিক সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বিভিন্ন দেশে কার্যক্রম চালানো কোম্পানিগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম মানতে হয়, যা এআই ব্যবস্থাপনা জটিল করে তোলে এবং এর প্রসার বাধাগ্রস্ত করে। ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কিত নিয়মাবলি সরকারি আইনের একটি অংশ হয়ে উঠবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।










