গুগলের সাবেক প্রধান নির্বাহী এরিক শ্মিট যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কর্মীদের সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন প্রযুক্তি কর্মীদের চীনের দ্রুতগতির প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার সঙ্গে টিকে থাকতে হলে তাদের কাজের সময় ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বিসর্জন দিতে হতে পারে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
অল-ইন পডকাস্টে প্রকাশিত এক কনফারেন্স সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘দূরবর্তী বা বাসায় বসে কাজ (রিমোট ওয়ার্ক বা হোম ওয়ার্ক) এবং স্বল্প সময়ের অফিস নীতি মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে চীনের কঠোর কাজের সংস্কৃতির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য যথেষ্ট সহায়ক হচ্ছে না।’
শ্মিট বলেন, ‘আপনি যদি প্রযুক্তি খাতে থাকেন এবং জিততে চান, আপনাকে কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।’
তিনি চীনের ‘৯৯৬’ কাজের সময়সূচির উদাহরণ দেন, সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা, সপ্তাহে ছয়দিন, যা মার্কিন নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তিনি আরো বলেন, ‘মনে রাখবেন, আমরা চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছি; চীনের জীবন ও কাজের ভারসাম্য হলো ৯৯৬।’
শ্মিট উল্লেখ করেন, তিনি এখনো কাজ ও জীবনকে ভারসাম্যের পক্ষে, তবে এটি হয়তো উচ্চ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য মানানসই নয়।
আমি কাজ ও জীবন ভারসাম্যের পক্ষে, আর তাই মানুষ সরকারি কাজ করতে পছন্দ করেন বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং একাধিকবার ক্ষমা চান।
গুগলের সাবেক এ প্রধান নির্বাহী এর আগে তার সাবেক কোম্পানির রিমোট ওয়ার্ক এবং উৎপাদনশীলতার বিষয়ে নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমালোচনা করেছেন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন, গুগল তাড়াতাড়ি বাড়ি যাওয়া এবং ঘরে বসে কাজ করাকে জয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
পরে সে ভিডিও মুছে ফেলা হয় এবং শ্মিট তার মন্তব্য প্রত্যাহার করেন।
প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা বিষয়ক প্রশ্নে শ্মিট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় সমান অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চীনে চিপ রফতানি সীমিত করার পদক্ষেপ কিছুটা তাদের অগ্রগতিকে কিছুটা ধীর করেছে। তবে চীন এখনো দ্রুত এগোচ্ছে।’
শ্মিটের মতে, চীনের প্রযুক্তি খাত এখন বেশি মনোযোগ দিচ্ছে দৈনন্দিন ব্যবহারভিত্তিক এআই অ্যাপ ও রোবোটিকসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বেশি লক্ষ্য রাখছে উন্নত কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (এজিআই) তৈরি করার দিকে। তিনি বলেন, ‘হার্ডওয়্যারের সীমাবদ্ধতা এবং পুঁজিবাজারের গভীরতার অভাবই এ পার্থক্যের মূল কারণ।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এজিআই নিয়ে কাজ করি, যা অত্যন্ত আকর্ষণীয়, তবে আমাদের অবশ্যই চীনের সঙ্গে দৈনন্দিন এআই ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করতে হবে।’










