শিশুদের ইন্টারনেট বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে অভিভাবকদের পর্যবেক্ষণ বা নিয়ন্ত্রণকে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল বলে, যা ফিচার, টুল বা সফটওয়্যারের সেটিংসে পরিবর্তন এনে করা হয়। প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশুরা যেন ডিজিটাল প্লাটফর্মে নিরাপদ থাকতে পারে এবং কী কনটেন্ট দেখবে অভিভাবকরা যেন তা ঠিক করে দিতে পারেন। এর মাধ্যমে স্মার্টফোন, সামাজিক মাধ্যম, কম্পিউটার, গেমিং কনসোল, এমনকি টিভির মতো ডিভাইসও নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। তবে ঘরে ইন্টারনেটের প্রধান উৎস রাউটারে সেটিংস পরিবর্তন করে শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার আরো নিরাপদ করা সম্ভব। যেভাবে রাউটারের মাধ্যমে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল করা যাবে—
বাজারে যেহেতু অনেক ব্র্যান্ডের রাউটার রয়েছে, ক্ষেত্রবিশেষে সেটিংস একেক রকম হতে পারে। তবে অধিকাংশ রাউটারে এমন কিছু সেটিংস থাকে যার মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় নির্ধারণ ও ওয়েবসাইট ব্লক করা যায়। রাউটারের সঙ্গে নির্দেশিকা থাকে, যার মাধ্যমে সহজেই এসব সেটিংস পাওয়া যাবে।
বর্তমানে রাউটার কোম্পানিগুলো নিজেদের অ্যাপ সেবা দিয়ে থাকে। তবে ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমেও রাউটারের অ্যাডমিন প্যানেলে প্রবেশ করা যায়। কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের যেকোনো ওয়েব ব্রাউজার থেকে রাউটারের নেটওয়ার্ক আইপি অ্যাড্রেস দিতে হবে। অধিকাংশ রাউটারের আইপি অ্যাড্রেস একই হয়ে থাকে। আর তা হলো 192.168.1.1 বা 192.168.0.1। তবে এর মধ্যে যদি না হয়ে থাকে তাহলে কম্পিউটারের ‘নেটওয়ার্ক স্ট্যাটাস’ থেকে দেখে নেয়া যাবে। তাছাড়া প্রতিটি রাউটারের পেছনে অ্যাডমিন প্যানেলে প্রবেশের ডিফল্ট অ্যাড্রেস দেয়া থাকে। এরপর ইউজার ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে নিতে হবে।
আধুনিক প্রায় সব রাউটারের সেটিংসে আলাদাভাবে ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোলস’ অপশন রয়েছে। যেখান থেকে প্রথমে একটি নাম দিয়ে প্রোফাইল তৈরি করে নিতে হবে। তখন রাউটারের সঙ্গে সংযুক্ত ডিভাইসগুলো দেখা যাবে। যেসব ডিভাইসে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল প্রয়োগ করতে হবে সেগুলো নির্বাচন করতে হবে। ‘ব্লকড কনটেন্ট’ নামে একটি সেকশন পাওয়া যাবে। যেখানে সেসব ওয়েবসাইট ব্লক করার প্রয়োজন, সেগুলোর ইউআরএল দিয়ে সেভ করতে হবে। এতে ওই ডিভাইসগুলো থেকে এসব ওয়েবসাইটে আর প্রবেশ করা যাবে না। ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ‘কি-ওয়ার্ড’ বা নির্দিষ্ট শব্দ যুক্ত করা যায়। সেসব শব্দসংক্রান্ত ওয়েবসাইটও তখন ব্লক হয়ে যাবে।
‘টাইম কন্ট্রোল’ নামে আরেকটি অপশন রয়েছে। যেখানে বিভিন্ন ধরনের ফিচার রয়েছে। ঘুমানোর সময় ইন্টারনেট অ্যাকসেস বন্ধ হয়ে যাবে। আবার সপ্তাহের কোন কোন দিন কত সময় ধরে ডিভাইসগুলোয় ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে তাও নির্ধারণ করা যাবে। প্রতিটি প্রোফাইল থেকে কত সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়েছে তাও অ্যাপ বা ওয়েব ব্রাউজার থেকে দেখা যাবে।
কোনো রাউটারে যদি সরাসরি ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোলস’ অপশন না থাকে তাহলেও এসব সেটিংস প্রয়োগ করা যাবে। কারণ সব রাউটারে ওয়েবসাইট ব্লক ও টাইম লিমিট ফিচার প্রয়োগ করা যায়। সিনেট অবলম্বনে










