গত বছরের তুলনায় ২০২৪ সালে ব্যবসায়িক খাতে জেনারেটিভ এআইতে (জেনএআই) ব্যয় বেড়েছে ৫০০ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ খাতে ব্যয় ছিল ২৩০ কোটি ডলার, চলতি বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৮০ কোটি ডলারে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম মেনলো ভেঞ্চারস প্রকাশিত প্রতিবেদনে গত বুধবার এ তথ্য উঠে এসেছে। মেনলোর মতে, কোম্পানিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে বেশি বিনিয়োগ করছে। তাদের মতে, শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তনে এটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। খবর সিএনবিসি।

মেনলোর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এন্টারপ্রাইজ এআই (শিল্পে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার) খাতে সম্পৃক্ত কোম্পানিগুলোর বাজার হিস্যার পরিবর্তন তুলে ধরা হয়েছে। মেনলোর তথ্যানুযায়ী, জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির প্যারেন্ট কোম্পানি ওপেনএআইয়ের এন্টারপ্রাইজ এআই বাজারের হিস্যা ৫০ শতাংশ থেকে কমে ৩৪ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের হিস্যা এ বাজারে দ্বিগুণ হয়েছে। গত বছর কোম্পানিটির বাজার হিস্যা ছিল ১২ শতাংশ, যা চলতি বছর ২৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ৬০০টি প্রতিষ্ঠানের আইটি সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে এ জরিপ করা হয়েছে। এসব কোম্পানিতে ৫০ বা তার বেশি কর্মী রয়েছে। উল্লেখ্য, অ্যানথ্রপিক কোম্পানির একটি বিনিয়োগকারী হলো মেনলো ভেঞ্চারস।

এ বছর মেটার ১৬ শতাংশ ও এআই কোম্পানি কোহেরের ৩ শতাংশ বাজার হিস্যা অপরিবর্তিত ছিল। এ সময় গুগলের বাজার হিস্যা ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ শতাংশ হয়েছে। ফ্রান্সভিত্তিক কোম্পানি মিস্ট্রালের হিস্যা ১ শতাংশ কমে ২০২৪ সালে হয়েছে ৫ শতাংশ।

মেনলো ভেঞ্চারসের অংশীদার টিম টালি সিএনবিসির এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এআইয়ের ক্ষেত্রে বাজারে নেতৃত্ব একটি কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে পরিবর্তন হচ্ছে। এর জন্য কিছুটা দায়ী লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ক্লড ৩.৫। এছাড়া অধিকাংশ কোম্পানি তিনটি বা তার বেশি বড় এআই মডেল ব্যবহার করছে। যদিও ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক ব্যবসার ক্ষেত্রে এআই মডেল সরবরাহে শীর্ষে আছে। কিন্তু মানুষ শুধু একটি মডেলই ব্যবহার করছে না, তারা প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে একাধিক এআই মডেল পরিবর্তন করছে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এন্টারপ্রাইজ খাতে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি, গুগলের জেমিনিটি, অ্যানথ্রপিকের ক্লড এখনো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে। এসব লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলোয় এন্টারপ্রাইজ থেকে হাজারো কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

মেনলোনের প্রতিবেদনে এআই এজেন্টসকে ২০২৪ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এআই এজেন্টস ব্যবহারকারীর পক্ষ থেকে কাজ সম্পন্ন বা সিদ্ধান্ত নিতে ডিজাইন করা হয়, যা সাধারণত আরো স্বতন্ত্র উপায়ে কাজ করে। গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক এ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এআই এজেন্টস চ্যাটবটের চেয়েও একধাপ এগিয়ে, কারণ এগুলো ব্যবহারকারীর হয়ে জটিল, বহুস্তরীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারে।

টালি সিএনবিসিকে বলেছেন, ‘এআই এজেন্টের বিষয়টি বাস্তব, এটি কোনো হাইপ নয়। আমি মনে করি না যে এটি ক্যান্সার নিরাময় করবে। তবে এটি মানুষকে আরো উৎপাদনশীল করে তুলবে ও কোম্পানিগুলোর আয় বাড়াতে সাহায্য করবে।’