টেক জায়ান্ট অ্যাপলের কাছে বিনিয়োগ চাওয়ার পরিকল্পনা করছে ইন্টেল। একসময়ের শীর্ষ চিপ প্রস্তুতকারক কোম্পানিটি সম্প্রতি কঠিন সময় পার করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাপলের থেকে সহায়তা প্রত্যাশা করছে ইন্টেল। এছাড়া দুই কোম্পানি আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়েও প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে। তবে এ আলোচনা চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ নাও নিতে পারে। খবর রয়টার্স।

প্রযুক্তি খাতসংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করলেও অ্যাপল ও ইন্টেল এখনো বিনিয়োগের বিষয় কিছু জানায়নি।

এদিকে পিসি ও ডাটা সেন্টারের জন্য নতুন চিপ তৈরির উদ্দেশ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি খাতে পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যে ইন্টেলে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয়েছে এনভিডিয়া। এ খবর প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যেই ইন্টেলে অ্যাপলের বিনিয়োগের পরিকল্পনার আলোচনা সামনে এল।

ইন্টেলের সিইও লিপ-বু টান কোম্পানিটি নতুন করে গড়ে তুলতে অংশীদার খুঁজছেন। একসময় চিপ শিল্পের ‘নেতা’ খেতাবধারী এ প্রতিষ্ঠান বর্তমানে দ্রুতবর্ধনশীল এআই বাজারে এনভিডিয়া ও এএমএমডির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। কোম্পানিটি নতুন যৌথ উদ্যোগ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় আবার শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত মাসেই ইন্টেলের ১০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এর মাধ্যমে ইন্টেল পাবে প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার। এ অর্থ ব্যবহার হবে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কারখানা বানানো বা বিদ্যমান কারখানা সম্প্রসারণের জন্য। পাশাপাশি জাপানের প্রযুক্তি বিনিয়োগ সংস্থা সফটব্যাংক গত মাসে ইন্টেলে প্রায় ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে।

উল্লেখ্য, অ্যাপল দীর্ঘদিন ধরে ইন্টেলের গ্রাহক ছিল, তবে ২০২০ থেকে আইফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি নিজের কাস্টম চিপ তৈরি করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্টেলে বিনিয়োগ কোম্পানির প্রতি অ্যাপলের আস্থা হিসেবে দেখা হবে।

অ্যাপল মূলত এখন চিপের জন্য টিএসএমসির ওপর নির্ভরশীল। নতুন অংশীদারত্বের মাধ্যমে অ্যাপল অন্য একটি চিপ সরবরাহকারী পাবে। ফলে যদি তাইওয়ানকে ঘিরে কোনো ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়, তখন অ্যাপলের চিপ সরবরাহে তেমন জটিলতা তৈরি হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কোম্পানির ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করতে চাইলে ইন্টেলকে লাভজনক সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে এবং অন্য কোম্পানিগুলোকে তাদের কারখানা ব্যবহার করতে উৎসাহিত করতে হবে।