ল্যাপটপ, ট্যাবলেটসহ ব্যক্তিগত কম্পিউটার আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারত। চলতি মাসের শুরুতে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের সময় তিন মাস বাড়িয়েছে দেশটির সরকার। অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে উৎপাদন ও বাজার বাড়াতে ভারত সরকার গৃহীত নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছে অ্যাপলসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রযুক্তি জায়ান্ট ও কোম্পানি। খবর টেকটাইমস।

নয়াদিল্লির তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে উপমন্ত্রী রাজীব চন্দ্রশেখর জানান, নতুন নীতিমালা কার্যকরের আগে এ খাতসংশ্লিষ্টদের জন্য ট্রানজিশন পিরিয়ড দেয়া হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্ট ও অন্য কোম্পানিগুলোর মতে, নীতিমালা কার্যকরের আগে ভারত সরকারের উচিত এটি নিয়ে পুনরায় ভাবা। কেননা এ নীতিমালা দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তা পর্যায়ে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। অ্যাপল, ইন্টেল থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানি প্রযুক্তিপণ্য আমদানিতে কঠোর এ বিধিনিষেধের বিরোধিতাও করেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, জোটটি মনে করছে প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হতে নয়াদিল্লি যে উদ্যোগ নিচ্ছে তা ভোক্তাদের ক্ষতির মুখে ঠেলে দেবে। ভারত যেন এ নীতিমালা কার্যকরের আগে পুনরায় মূল্যায়ন করে সেজন্য বিভিন্ন কোম্পানি বাইডেন প্রশাসন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠিও দিয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে সূত্রে জানা গেছে। ফলে ভারতে বিদেশ থেকে সার্ভার, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ, ব্যক্তিগত কম্পিউটারসহ প্রযুক্তিপণ্যের আমদানি বাধাগ্রস্ত হবে।

প্রযুক্তিপণ্য আমদানিতে কেন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলেও ভারত সরকারের কাছ থেকে সেভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ম্যাকরিউমরসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ হিসেবে ভারত অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদনকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য এ উদ্যোগ নিয়েছে। এটি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মেড ইন ইন্ডিয়া ক্যাম্পেইনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

আমদানি বন্ধের এ নীতিমালা দিল্লির প্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নিলেও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর দাবি এটি বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন, সামগ্রিক ব্যবসা ও দুই দেশের ভোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

অ্যাপল ছাড়াও সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন, দি ইনফরমেশন টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি কাউন্সিল ও ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ম্যানুফ্যাকচারার্স নতুন এ সংশোধনের তীব্র বিরোধিতা করেছে। নথির তথ্যানুযায়ী, বৈশ্বিক পর্যায়ে বিশ্বাসযোগ্য ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে ভারতের যে অবস্থান নতুন নীতিমালার কারণে তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদি সে রকম কিছু হয় তাহলে কুপারটিনোর প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলসহ সবার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনমন হবে। এটি প্রাথমিক ধারণা। নীতিমালা কার্যকরের পর আরো সমস্যার বিষয়ে জানতে হলে কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। নতুন নীতিমালার অধীনে বর্তমানে ভারতে যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা পরিচালনা করছে তাদের পণ্য আমদানির জন্য আলাদা লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। এটি নিষিদ্ধ জিনিস আমদানির জন্য নির্ধারিত। ভারতের বাজারে বর্তমানে যেসব ল্যাপটপ ও ব্যক্তিগত কম্পিউটার রয়েছে সেগুলো চীনে তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরিতে আগ্রহী ভারত। এরই মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে কারখানা স্থাপনসংক্রান্ত আলোচনাও করছে। নতুন বিধিনিষেধের মাধ্যমে ভারত সরকার কোম্পানিগুলোকে ভারতে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে জানাচ্ছে। ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগ এ নির্দেশনার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে।