অধিবাসী তথা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষিত রাখতে নতুন আইন কার্যকর করতে যাচ্ছে ভারত সরকার। বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, নতুন এ বিধান আগের একটি আইনের কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। যার মাধ্যমে ভারত সরকারের কার্যক্রমে স্বচ্ছতার বিষয়টি এসেছিল। ভবিষ্যতে এ আইনের প্রভাব কেমন হবে সে বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। খবর বিবিসি।

গত সপ্তাহেও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভারতে এতদিন কোনো আইন ছিল না। সম্প্রতি সংসদে দ্য ডিজিটাল পার্সোনাল ডাটা প্রটেকশন বিল পাস হয়েছে। যার মাধ্যমে এ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে। কিন্তু নিরাপত্তা গবেষকরা এ বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নতুন আইনটি অধিবাসীদের সরকারি নজরদারি থেকে সুরক্ষিত রাখবে না। বিপরীতে প্রয়োগের ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকারকে আরো বেশি সক্ষমতা দেবে।

আইনটিতে নতুন একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। যার বিরুদ্ধে সমালোচনাও হচ্ছে। এটি ছিল রাইট টু ইনফরমেশন (আরটিআই) আইনের ল্যান্ডমার্ক। এর মাধ্যমে অধিবাসীরা সরকারের কাছ থেকে তথ্য জানতে পারত। ২০০৫ সালে আইনটি পাস হওয়ার পর কয়েক বছর এটি নিয়ে ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। সেখানে কোটির বেশি ভারতীয় সরকারি বিভিন্ন বিভাগ ও কর্মকর্তাদের কাছে কিছু বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছে। কিন্তু নীতিমালায় নতুন পরিবর্তন ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে আনতে বাধা দেবে। ফলে এটি ব্যবহারে যেসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জনগণের তথ্যের অধিকার নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পরিচালিত ক্যাম্পেইনের সহ-আহ্বায়ক অঞ্জলি ভরদ্বাজ বলেন, ‘সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ও দুনীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য জনগণ এতদিন আরটিআই আইন ব্যবহার করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কারো ব্যক্তিগত তথ্য।’

রাইট টু ইনফরমেশন আইন কখনই যথাযথ কার্যকর হয়নি। বিভিন্ন সময়ে নির্বাচিত রাজনৈতিক দল আইন শিথিলের চেষ্টাও চালিয়েছে। অধিকারবাদীদের শঙ্কা নতুন পরিবর্তনের ফলে সাধারণ জনগণ হয়তো আর তথ্যে প্রবেশাধিকার পাবে না। সাধারণ হিসেবে রাইট টু ইনফরমেশন আইনের অধীনে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় ছাড়া জনগণ সব ধরনের তথ্যে প্রবেশাধিকার পাবে। এর একটি বিতর্কিত ধারা রয়েছে। সেখানে বলা হয়, কারো ব্যক্তিগত তথ্য যদি জাতীয় কোনো কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হয় এবং হয়রানির সূচনা করে তাহলে আবেদন বাতিল করে দেয়া যাবে।

কিন্তু নতুন আইনে এ ধারায় পরিবর্তন আনছে। শুধু বলা হচ্ছে ব্যক্তিগত কোনো তথ্য থাকলে তা বাদ দেয়া যাবে। কিন্তু বিস্তারিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। তথ্য সুরক্ষা আইনে আরো বলা হয়, নতুন পাসকৃত আইন মেনে না চললে বড় ধরনের জরিমানা করা হবে। যার সর্বোচ্চ হার ২৫০ কোটি রুপি বা ৩ কোটি ডলারের কাছাকাছি। এর ফলে আইনটি নিয়ে কাজ করা কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত তথ্য সম্পর্কিত কোনো উত্তরও প্রকাশ করবে না। গান্ধী বলেন, ‘যদি সরকারি পর্যায়ে জরিমানার হার কমানোও হয় কোনো কর্মকর্তা জনস্বার্থে কারো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করবে না।’

অধিকারকর্মীদের মতে, আইনে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে তা দুর্নীতি শনাক্তে ও নাগরিক অধিকার রক্ষা কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। অঞ্জলি ভরদ্বাজ উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা আইনের অধীনে একটি ব্যবস্থা রয়েছে। যদি কোনো দুর্নীতি হয় বা কেউ রেশন না পেয়ে থাকে তাহলে ন্যায্যমূল্যের দোকানে থাকা রেজিস্টার থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। বিশেষ করে যদি রেশন বিক্রি করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে সরকারি রেশন যথাযথভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে কিনা সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়।’