মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল প্রশিক্ষণের জন্য কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট ব্যবহারের বিষয়ে কর্মীদের অভ্যন্তরীণ আলোচনা ফাঁস হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দাখিল করা নথিতে দেখা গেছে, মেটার কর্মীরা এমন কিছু কনটেন্ট ব্যবহার করেছেন যা আইনিভাবে বৈধ নয়। খবর টেকক্রাঞ্চ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে মামলার অংশ হিসেবে প্রকাশিত নথিতে দাবি করা হয়েছে, মেটার এআই প্রশিক্ষণে কপিরাইটকৃত বই ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ নিজেও এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সংস্থাটি প্রকাশকদের সঙ্গে ডাটা লাইসেন্স চুক্তির আলোচনা বন্ধ করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আদালতে উপস্থাপিত নতুন নথিতে দেখা যায়, মেটার অভ্যন্তরীণ চ্যাটে কর্মীরা স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে তারা আইনত বৈধ নয় এমন উপায়ে ডাটা সংগ্রহ করেছেন। মেটার সিনিয়র ম্যানেজার মেলানি কামবাদুর এক বার্তায় জানিয়েছেন, এআই প্রশিক্ষণের জন্য বই সংগ্রহ করা ও ব্যবহারের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে অনুমোদন চাওয়ার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নথিতে আরো উল্লেখ করা হয়, মেটার গবেষণা প্রকৌশলী জাভিয়ের মার্টিনেট ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যন্তরীণ চ্যাটে বলেন, ‘আমরা আগে কাজ করব, পরে অনুমতি নেব। বই সংগ্রহ করব, আর নির্বাহীরা সিদ্ধান্ত নেবেন।’ তিনি আরো জানান, মেটা প্রকাশকদের সঙ্গে লাইসেন্স চুক্তি না করে সরাসরি ই-বুক কিনে প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করেছে।
অভ্যন্তরীণ চ্যাটে সিনিয়র ম্যানেজার মেলানি কামবাদুর বলেন, ‘এআই প্রশিক্ষণের জন্য কিছু তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে যা আইনত বৈধ নয়। তিনি আরো জানান, কোম্পানির আইনজীবীরা এখন আগের চাইতে কম কঠোর। তাই তুলনামূলক দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে।’
নথিতে আরো দেখা যায়, কর্মীরা কপিরাইট লঙ্ঘনকারী ওয়েবসাইট ‘লাইব্রেরি জেনেসিস’ ব্যবহার নিয়েও আলোচনা করেছেন। মেটার পরিচালক সোনি থেকানাথ এক ই-মেইলে জানান, লাইব্রেরি জেনেসিস থেকে তথ্য না নিলে এআই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হতে পারে।
বাদী পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, মেটা পাইরেটেড বই ও কপিরাইটযুক্ত বই বিশ্লেষণ করে দেখেছে যে কোন কোন ক্ষেত্রে লাইসেন্স নেয়া প্রয়োজন।
মেটা জানিয়েছে, মামলাকে বড় আইনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে তারা। এজন্য তারা সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ দুই আইনজীবীকে আইনি লড়াইয়ের জন্য নিয়োগ করেছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে তথ্যানুযায়ী, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের প্যারেন্ট কোম্পানি মেটা প্লাটফর্মস ইনকরপোরেটেডের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মেটা এআইয়ের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০ কোটি ছাড়িয়েছে।










