সম্প্রতি ভারতীয় শীর্ষ টেলিকম অপারেটররা ১৫-২০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ বা মূল্য বাড়িয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে টেলিকম খাত সুদ, করসহ অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে (ইবিআইটিডিএ) প্রায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। মতিলাল ওসওয়াল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের বিশ্লেষক তন্ময় গুপ্ত এ পূর্বাভাস দেন। খবর টেলিকম লিড।
শীর্ষ তিনটি টেলিকম অপারেটর কোম্পানি তাদের প্রি-পেইড ও পোস্টপেইড প্ল্যানগুলোর দাম বাড়িয়েছে। নেটওয়ার্ক সেবাদাতা এ কোম্পানিগুলোর মধ্যে রিলায়েন্সের জিও সবচেয়ে বেশি প্রায় ১৯ শতাংশ মূল্য বাড়িয়েছে। এরপর অবস্থান করছে এয়ারটেল ও ভোডাফোন আইডিয়া, যারা গ্রাহক পরিষেবার জন্য মূল্য যথাক্রমে ১৫ ও ১৬ শতাংশ বাড়িয়েছে। তবে জিওভারত ও জিওফোন এখনো দাম অপরিবর্তিত রেখেছে।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এয়ারটেল ও ভোডাফোন আইডিয়া তাদের সাশ্রয়ী ট্যারিফ প্ল্যানের জন্য অন্য নেটওয়ার্ক কোম্পানির তুলনায় দাম কম বাড়িয়েছে, যা ১১ শতাংশ। মূলত টুজি সেগমেন্টের গ্রাহক ধরে রাখার জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তবে জনপ্রিয় সেগমেন্টে এয়ারটেল ও ভোডাফোন ১৭-১৮ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়িয়েছে।
নেটওয়ার্ক অপারেটর ট্যারিফ বা মূল্য বাড়ানোর ফলে গ্রাহকের খরচ বাড়বে। আগামী বছরের শেষে জিও গ্রাহকের খরচ বাড়বে গড়ে ২১৩ রুপি। এয়ারটেল গ্রাহক ২৫১ রুপি এবং ভোডাফোন আইডিয়া গ্রাহককে প্রায় ১৭৫ রুপি বাড়তি খরচ করতে হবে। কোম্পানিগুলোর প্রত্যাশিত গ্রাহকপ্রতি গড় আয় বৃদ্ধির ফলে আগামী দুই প্রান্তিকে জিও ২৬ শতাংশ, এয়ারটেলের ২৪ এবং ভোডাফোন আইডিয়া ২৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে পূর্বাভাস করা হয়েছে।
ভারতে দুই বছরের মধ্যে প্রথমবার ট্যারিফ প্ল্যান বৃদ্ধি টেলিকম খাতের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও কিছু গ্রাহক সাশ্রয়ী ট্যারিফ প্ল্যানের জন্য অন্য নেটওয়ার্ককে চলে যেতে পারেন বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। এরই সঙ্গে ভারতে নতুন কত গ্রাহক ফাইভজি প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করছেন এবং নতুন কত গ্রাহক ইন্টারনেট পরিষেবার আওতায় এসেছেন সেটাও পর্যবেক্ষণ করবেন তারা।
এদিকে রিলায়েন্স জিও সম্প্রতি দুটি নতুন পরিষেবা চালু করছে। এর একটি হলো কল, মেসেজ ও ফাইল শেয়ারের অ্যাপ জিওসেফ। এ পরিষেবা ব্যবহার করতে মাসে খরচ পড়বে ১৯৯ রুপি। অন্যটি হলো জিও ট্রান্সলেট যা কল, মেসেজ ও ইমেজ অনুবাদ করার অ্যাপ। এর জন্য প্রতি মাসে খরচ পড়বে ৯৯ রুপি।
প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সুদ, করসহ অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে ভারতীয় শীর্ষ তিন নেটওয়ার্ক কোম্পানির আয় বৃদ্ধি পাবে। জিও অতিরিক্ত ১৯ হাজার ৮০০ কোটি রুপি আয় করতে পারে। এর পাশাপাশি এয়ারটেল অতিরিক্ত ১৪ হাজার ৭০০ কোটি রুপি এবং ভোডাফোন আইডিয়া ৩ হাজার ১০০ কোটি রুপি আয় করতে পারে।
এদিকে বর্তমানে ভারতের তিনটি শীর্ষ নেটওয়ার্ক কোম্পানি ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। এয়ারটেলের গ্রাহক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়ও বেড়েছে। এয়ারটেলের হোম ইন্টারনেট ও ব্যবসায়িক পরিষেবাগুলো সম্প্রসারিত হচ্ছে। এয়ারটেলের ব্যবস্থাপনা পরিষদ আশা করছে, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য তাদের কাছে যথেষ্ট অর্থ থাকবে। এছাড়া জিও শক্তিশালী নেটওয়ার্কের সঙ্গে গ্রাহককে সাশ্রয়ী ট্যারিফ প্ল্যান অফার করছে। কোম্পানিটি গ্রাহক ও আয় বৃদ্ধির আশা করছে, বিশেষত জিওভারত ও জিওফোনের গ্রাহকের জন্য মূল্য এখনো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এদিকে ট্যারিফ বৃদ্ধি ভোডাফোন আইডিয়া কোম্পানির আয় বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে কোম্পানিটির বর্তমানে অনেক ঋণ রয়েছে এবং ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট আয় করতে পারছে না। ভারতের বাজারে অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে কোম্পানিটিকে আরো অর্থ তহবিল সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি নেটওয়ার্ক পরিষেবাকেও আরো উন্নত করতে হবে।










