গোপনীয় অনেক তথ্য থাকতে পারে ব্যক্তিগত ফোনে। যদিও নিরাপত্তার জন্য স্মার্টফোনে লক স্ক্রিনের ব্যবস্থা রয়েছে, তবে এটি সব সময় নিরাপদ নয় বলে জানান প্রযুক্তিসংশ্লিষ্টরা। কারণ কখনো কখনো ব্যক্তি নিজেই ফোন আনলক করে অন্য কারো হাতে দিয়ে থাকেন, যেমন একটি কল করার, ছবি তোলার বা কিছু অনলাইনে কিছু খোঁজার জন্য। এ সময় তারা ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন কিছু দেখে ফেলতে পারেন, যা ব্যক্তি গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। স্মার্টফোন সুরক্ষিত রাখা এখন অনেকটা সহজ করেছে অ্যান্ড্রয়েডের নতুন অ্যান্টি-থেফট ও প্রাইভেট স্পেস ফিচার। প্রাইভেট স্পেস সেটআপ করতে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো অ্যাপ ডাউনলোডের প্রয়োজন নেই।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনটিতে প্রাইভেট স্পেস সেটআপ করার জন্য ব্যবহারকারীকে ফোনে একটি আলাদা প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। এ আলাদা প্রোফাইলের উদ্দেশ্য হলো প্রাইভেট স্পেসে থাকা অ্যাপ ও ডাটা সম্পূর্ণভাবে মূল অ্যান্ড্রয়েড প্রোফাইল থেকে পৃথক ও সুরক্ষিত রাখা।

প্রথমে ফোনের সেটিংসে গিয়ে নিচে স্ক্রল করে সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রাইভেসি নির্বাচন করতে হবে। এ সেকশনের মধ্যে প্রাইভেট স্পেস অপশনটি খুঁজে ট্যাপ করতে হবে। এবার ফোনের স্ক্রিন লক ব্যবহার করে প্রাইভেট স্পেস আনলক করে সেটআপে ট্যাপ করে ‘গট ইট’ (Got it) নির্বাচন করতে হবে। এরপর নিজের গুগল অ্যাকাউন্টে সাইনইন করতে হবে বা নতুন একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। পরবর্তী ধাপ হলো—ডিভাইসের স্ক্রিন লক দিয়ে প্রাইভেট স্পেস সুরক্ষিত করা। এটি করতে ইউজ স্ক্রিন লক (Use screen lock) নির্বাচন করতে হবে। কেউ চাইলে ডিভাইসের স্ক্রিন লকের পরিবর্তে একটি কাস্টম প্যাটার্ন, পিন বা পাসওয়ার্ড লক সেট করতে চুজ নিউ লক (Choose new lock) অপশনটিতে ট্যাপ করতে হবে। এবার সবশেষে ডান (Done)-এ ট্যাপ করতে হবে।

প্রথমবার প্রাইভেট স্পেস তৈরির সময় ব্যবহারকারীকে একটি গুগল অ্যাকাউন্ট নির্বাচন করতে হবে অথবা নতুন একটি অ্যাকাউন্ট তৈরির সুযোগ দেয়া হবে। যদিও ফোনে ব্যবহৃত মূল অ্যাকাউন্টটিই প্রাইভেট স্পেসের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব, তবে সর্বোচ্চ সুরক্ষার জন্য একটি আলাদা গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার পরামর্শ দেন প্রযুক্তিসংশ্লিষ্টরা। এতে প্রাইভেট স্পেসের ডাটা সম্পূর্ণ আলাদা থাকবে।

প্রাইভেট স্পেস সেটআপ করার পর এটি অ্যাপ ড্রয়ারে স্ক্রল করে নিচে থাকা তালাবদ্ধ আইকনে (padlock icon) ট্যাপ করে খুঁজে পাওয়া যাবে। প্রাইভেট স্পেসে ক্যামেরা, কন্টাক্টস, ফটো ও প্লে স্টোরের মতো কিছু প্রি-ইনস্টলড অ্যাপ থাকবে। মেইন স্পেসের কোনো অ্যাপ প্রাইভেট স্পেসে দেখা যাবে না। কোনো অ্যাপ প্রাইভেট স্পেসে নিতে হলে সেটি মেইন স্পেস থেকে আনইনস্টল করে প্রাইভেট স্পেসে পুনরায় ইনস্টল করতে হবে। অথবা একই অ্যাপের দুটি কপি রাখা যাবে—একটি মেইন স্পেসে ও আরেকটি প্রাইভেট স্পেসে।

প্রাইভেট স্পেসের ইনস্টল (Install)-এ ট্যাপ করে নতুন অ্যাপ যুক্ত করা যাবে। এছাড়া প্রাইভেট স্পেস আনলক থাকলে অ্যাপের নোটিফিকেশন দেখা যাবে। তবে ডাটা সুরক্ষিত রাখতে প্রাইভেট স্পেস লক করার সঙ্গে সঙ্গেই সব নোটিফিকেশন বন্ধ হয়ে যাবে।

প্রাইভেট স্পেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক করারও সুবিধা রয়েছে। এখানে তিন অপশন থাকবে—এক. প্রতিবার ডিভাইস লক হলে এটি লক হয়ে যাবে। দুই. স্ক্রিন টাইমআউটের ৫ মিনিট পর ও তিন. শুধু ডিভাইস রিস্টার্টের পর লক হবে।

—স্ল্যাশগিয়ার অবলম্বনে