স্প্যাম ই-মেইলে অনেক সময় ‘আনসাবস্ক্রাইব’ বাটন দেখা যায়। অপ্রয়োজনীয় মেইল বারবার না পেতে অনেকেই অপশনটিতে ক্লিক করে। তবে কাজটি অনলাইন নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর টেকরাডার।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি ডিএনএস ফিল্টারের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা টিকে কিয়ানিনি জানান, ই-মেইলে থাকা আনসাবস্ক্রাইব বাটনে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীদের নিরাপদ পরিবেশ থেকে অনিরাপদ ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে থাকতে পারে ক্ষতিকর পেজ। ফলে ব্যবহারকারীর ডিভাইস ও ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এমনকি তিনি জানান, প্রতি ৬৪৪টি আনসাবস্ক্রাইব ক্লিকের মধ্যে অন্তত একটি ক্লিক ব্যবহারকারীকে এমন অনলাইন সাইটে নিয়ে যায়, যা ক্ষতিকর বা বিপজ্জনক হতে পারে। এছাড়া লিংকটিতে কারা ক্লিক করছে ও কাদের ই-মেইল ঠিকানা কার্যকর রয়েছে, এটা দেখতেও অনেক সময় অপরাধীরা মেইল পাঠায়। এভাবে তারা ভবিষ্যতে ওই ঠিকানায় আবারো স্প্যাম পাঠিয়ে হামলা চালাতে পারে।

টিকে কিয়ানিনি বলেন, ‘অপরিচিত মেইল পেলে যেমন বিশ্বাস করবেন না, তেমনি তাতে থাকা আনসাবস্ক্রাইব লিংকও ক্লিক করবেন না।’

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টমস গাইডের মতে, এক্ষেত্রে ব্যবহৃত ই-মেইল অ্যাপ (জিমেইল, আউটলুক) বা ওয়েবসাইটে অনেক সময় আলাদা একটি ‘আনসাবস্ক্রাইব’ বাটন থাকে। এটিতে ক্লিক করা নিরাপদ। যদি ইনবক্সে এমন সুবিধা না থাকে, তাহলে স্প্যাম ফিল্টার বা প্রেরককে সম্পূর্ণরূপে ব্লক করার পরামর্শ দেয়া হয়। পাশাপাশি অপরিচিত ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করার সময় চাইলে অস্থায়ী বা আলাদা ই-মেইল ঠিকানাও ব্যবহার করা যায়। অনেক ই-মেইল সার্ভিস এ সুবিধা দিতে পারে। যেমন জিমেইলে নিজের ঠিকানার সঙ্গে একটা ‘প্লাস চিহ্ন’ ও বিশেষ শব্দ জুড়ে দেয়া যায়।

বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, অনলাইন জগতে স্প্যাম ই-মেইলের মাধ্যমে ফিশিং আক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে। অপরাধীরা লোভনীয় অফার, লটারিতে জেতা বা ব্যাংকের তথ্য আপডেট করার অনুরোধ পাঠিয়ে মানুষকে প্রতারিত করার চেষ্টা করে। অনেক সময় এ মেইলগুলো দেখতে ঠিক আসল ও বিশ্বাসযোগ্য মনে হলেও লিংক বা অ্যাটাচমেন্টে থাকে বিপজ্জনক ভাইরাস।