চলতি বছর শেষে বিশ্বব্যাপী এআই চশমা বিক্রি হবে ৫০ লাখ ইউনিটের বেশি, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১৫৮ শতাংশ বেশি। গুগল ও শাওমির মতো শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এ বাজারে অংশ নেয়ায় আগামী বছর এআই চশমার বিক্রি ১ কোটি ইউনিট ছাড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এআই চশমার বাজারে বিক্রি ৩ কোটি ৫০ লাখ ইউনিটে পৌঁছাবে। ২০২৫-৩০ সালের মধ্যে বাজারটি বছরে বাড়বে ৪৭ শতাংশ হারে।
ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের প্যারেন্ট কোম্পানি মেটা গত মাসে উপস্থাপন করেছে নতুন এআই স্মার্ট চশমা। অত্যাধুনিক এ ডিভাইসে আছে উন্নত এআই প্রযুক্তি ও বিল্টইন ডিসপ্লে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী ডিসপ্লেযুক্ত মেটার রে-ব্যান স্মার্ট চশমার উন্মোচন প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এদিকে আবার চশমা ব্র্যান্ড ওয়ারবি পার্কারের সঙ্গে অংশীদারত্ব করে আগামী বছর স্মার্ট চশমা উন্মোচনের পরিকল্পনা করছে গুগলও। পাশাপাশি স্ন্যাপ ২০২৬ সালে একটি অনুরূপ ডিভাইস বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং অ্যাপলও নিজস্ব হালকা হেডসেট নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
ওমডিয়ার গবেষণা পরিচালক জেসন লো বলেন, ‘সাধারণ চশমায় উন্নত প্রযুক্তি ও বুদ্ধিমত্তা সংযুক্ত করা আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখে।’
তবে তিনি উল্লেখ করেন, ঘড়ির মতো অন্যান্য পরিধেয় ডিভাইসের তুলনায় এআই চশমার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ প্রতিবন্ধকতা আছে। চশমায় অভ্যন্তরীণ ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন থেকে উদ্ভূত গোপনীয়তার উদ্বেগ রয়েছে। পাশাপাশি সবাই এ চশমা সারা দিন চোখে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ নাও করতে পারে বা সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নাও মনে হতে পারে।
ওমডিয়ার সিনিয়র বিশ্লেষক কিরান জু মন্তব্য করেন, ‘এআই চশমার বাজারে পথপ্রদর্শক হিসেবে উদ্ভূত হয়েছে মেটা। কোম্পানিটি এআই চশমা তৈরিতে রে-ব্যানের মতো ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছে। এ অংশীদারত্বের কারণে এআই চশমা এখন সাধারণ বাজারে গ্রহণযোগ্য ও আকর্ষণীয় হচ্ছে।’
ওমডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম এআই চশমার বাজার হতে যাচ্ছে চীন। ২০২৬ সালে দেশটিতে প্রায় ১২ লাখ ইউনিট এআই চশমা বিক্রি হতে পারে, যা হবে বিশ্বব্যাপী মোট বিক্রির ১২ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের এআই চশমার বাজারের বিশেষত্ব হলো এখানে বড় ইন্টারনেট কোম্পানি, স্মার্ট ডিভাইস নির্মাতা ও নতুন উদীয়মান প্রতিষ্ঠানগুলো সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। এছাড়া চীনের অন্যান্য বাজার পরিবেশ ও জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির দ্রুত বাণিজ্যিকীকরণ এআই চশমার বিক্রি ও জনপ্রিয়তার বাড়ানোর জন্য মজবুত ভিত্তি তৈরি করছে।
আইডিসির ওয়ার্ল্ডওয়াইড মোবাইল ডিভাইস ট্র্যাকারসের রিসার্চ ম্যানেজার জিতেশ উব্রানি বলেন, ‘এআই চশমার ব্যবহার শুধু গেমিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতে এগুলো আরো বেশি পরিমাণে সাধারণ গ্রাহকদের কাছে পৌঁছবে।’
ওমডিয়ার মতে, ডিভাইসের ভেতরে ক্লাউডে থাকা লার্জ ল্যাংঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) ব্যবহার করে প্রাসঙ্গিক তথ্য ও সহায়তা প্রদান করে এআই চশমা। এসব ডিভাইস মাল্টিমোডাল ইন্টারফেস সিস্টেমের মাধ্যমে কাজ করে এবং ভয়েজ ও ভিশনকে কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীর আশপাশের পরিবেশ বুঝতে পারে।










