প্রযুক্তি খাতে বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে পরনির্ভরতা কমাতে ও শক্তিশালী হাবে পরিণত হতে উদ্যোগ নিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। বিভিন্ন কোম্পানির কারখানা স্থাপন, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনসহ ভর্তুকি দেয়ার উদ্যোগও নেয়া হয়। দেশটির অ্যারিজোনা অঞ্চলে কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি)। তবে এ কারখানায় উৎপাদনের সময়সীমা পেছানোর কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি, যা বাইডেনের উদ্যোগের জন্য বড় ধাক্কা। খবর বিবিসি।

কোম্পানিটি জানায়, আগামী বছর থেকে চিপ উৎপাদন শুরুর কোনো সম্ভাবনা নেই। মূলত দক্ষ কর্মী না থাকায় এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়েছে টিএসএমসিকে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়াতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দ্য হোয়াইট হাউজ। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রযুক্তি খাত নিয়ে দ্বৈরথ চলছে। এর মধ্যেই কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন কার্যক্রম পেছানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে এল। সম্প্রতি টিএসএমসির শেয়ার মূল্য ৩ শতাংশ কমেছে।

চলতি সপ্তাহে দেয়া এক বিবৃতিতে টিএসএমসির চেয়ারম্যান মার্ক লিউ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমে অ্যারিজোনার কারখানায় ২০২৫ সালের আগে অ্যাডভান্সড মাইক্রোপ্রসেসরের উৎপাদন শুরু করা যাচ্ছে না। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় লিউ জানান, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে অ্যারিজোনায় কারখানা স্থাপনের কাজ চলছে। সেমিকন্ডাক্টর গ্রেড ফ্যাসিলিটিতে যন্ত্রাংশ স্থাপনে যে রকম দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন সে রকম লোকের ঘাটতি রয়েছে।

তিনি জানান, কোম্পানিটি বর্তমান পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে তাইওয়ান থেকে দক্ষ টেকনিশিয়ানকে পাঠিয়ে কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে চলতি বছর ১০ শতাংশ বিক্রি কমার পূর্বাভাস দিয়েছে টিএসএমসি। মূলত সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা কমে যাওয়ায় বিক্রি কমার কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি।

কোম্পানিটি জানায়, জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে এর মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ কমে ১৮ হাজার ১৮০ কোটি তাইওয়ানিজ ডলারে পৌঁছেছে। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময়ই টিএসএমসি অ্যারিজোনায় প্রথম কারখানা স্থাপনের ঘোষণা দেয়।

২০২২ সালে ডিসেম্বরে কোম্পানিটি জানায়, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিনিয়োগ তিন গুণ বাড়িয়ে ৪ হাজার কোটি ডলার করা হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিদেশী বিনিয়োগ। সে সময় লিউ জানিয়েছিলেন, অ্যারিজোনায় যে দুটি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে তার প্রথমটি ২০২৪ সালে এবং দ্বিতীয়টি ২০২৬ সাল নাগাদ উৎপাদন শুরু করবে।

চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ চলছে। যার অংশ হিসেবে চীনের চিপ উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি রোধে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি রফতানি নিষিদ্ধ করেছে বাইডেন প্রশাসন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের চিপ খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে কয়েক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে ও করেছে।

বিশ্বে যে পরিমাণ কম্পিউটার চিপ তৈরি হয় তার ১০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক। গাড়ি থেকে শুরু করে সেলফোনে এ চিপ ব্যবহার হয়। যেখানে ১৯৯০ সালে দেশটি মোট বৈশ্বিক চাহিদার ৪০ শতাংশ উৎপাদন করত। গত বছর প্রেসিডেন্ট বাইডেন উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য ২৮ হাজার কোটি ডলার মূল্য তহবিল ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আইনে স্বাক্ষর করেন। যেসব প্রতিষ্ঠান দেশের অভ্যন্তরে কম্পিউটার চিপ উৎপাদন করে তাদের কর মওকুফের বিষয়টিও সেখানে উল্লেখ করা হয়।