ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, অল-ইন-ওয়ান পার্সোনাল কম্পিউটার, আল্ট্রা স্মল ফ্যাক্টর কম্পিউটার ও সার্ভার আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। খবর ইটি টেলিকম।
ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) জানায়, গত ৩ আগস্ট নির্ধারিত পণ্য আমদানিতে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানানো হয়েছে চলতি বছরের নভেম্বর থেকে তা কার্যকর হবে। সরকারি এক কর্মকর্তা জানান, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পণ্য আমদানি করা যাবে এবং লিবারেল ট্রানজিশনাল অ্যারেঞ্জমেন্টের বিষয়ে সবাইকে অবহিত করা হয়েছে।
নোটিফিকেশনের তথ্যানুযায়ী, এখন যেসব পণ্যের আমদানি চাহিদা দেয়া হয়েছে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সেগুলো ক্লিয়ার করা যাবে। এগুলোর জন্য কোনো লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে না। ১ নভেম্বর থেকে এসব পণ্য আমদানি করতে হলে সরকারের কাছ থেকে লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য শিল্প খাতসংশ্লিষ্টরা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। একটি সূত্র জানায়, বন্দরে কোনো কোম্পানির পণ্য আমদানি বা চালান আটকে আছে কিনা সেটিও সরকারি পর্যায় থেকে দেখা হচ্ছে। এছাড়া নিষিদ্ধ পণ্যের আমদানিতে যে লাইসেন্স প্রয়োজন সহজে সেটি সরবরাহের জন্য আলাদা পোর্টালও চালু করেছে ডিজিএফটি।
সূত্র জানায়, কী কারণে ল্যাপটপ, ট্যাবলেট ও অন্যান্য প্রযুক্তি পণ্য আমদানি করা হবে সে বিষয়ে কোম্পানিগুলোর কাছে জানতে চাইবে ডিজিএফটি। মূলত তথ্য সংগ্রহের জন্যই কোম্পানিগুলোর কাছে প্রশ্ন করা হবে। আরেক সরকারি কর্মকর্তা জানান, একবার বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর ভারতে উৎপাদন পরিকল্পনাসহ উপাদানের সরবরাহ উৎস কি সে সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হবে।
যে কোম্পানিগুলো বাইরে থেকে বৈদ্যুতিক পণ্য আমদানি করে থাকে তারা একাধিক লাইসেন্সের আবেদন করতে পারবে। তবে ভারতে বা অন্য কোথাও তাদের কী পরিমাণ কারখানা আছে সেটি বিবেচনায় নেয়া হবে। অধিকাংশ লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে এক বছর। এরই মধ্যে দুটি কোম্পানি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করবে বলে জানা গেছে। সরকারি সূত্রটির আশা অন্যান্য কোম্পানিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করবে।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, গত বছর মোট আমদানীকৃত পণ্যের মধ্যে ৫৭ দশমিক ৬৬ শতাংশই ছিল স্বর্ণ, প্রাকৃতিক গ্যাস, অপরিশোধিত পাম তেল, ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট, ব্যক্তিগত কম্পিউটার, ইনসুলিন ইনজেকশন, ক্যামেরা, ইউরিয়া, অ্যান্টিবায়োটিক, টার্বো জেট, লিথিয়াম আয়ন অ্যাকুমুলেটরস, পরিশোধিত কপার, মেশিন ও মেকানিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্স।










