বিশ্বব্যাপী সোশ্যাল মিডিয়া নিরাপত্তার বাজার ২০৩০ সালের মধ্যে ৩১০ কোটি ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। গত বছর বাজারটির মূল্য দাঁড়ায় ১৬০ কোটি ডলারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪-৩০ সাল পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়া নিরাপত্তা বাজারের সমন্বিত বার্ষিক প্রবৃদ্ধি (সিএজিআর) হবে ১১ শতাংশের বেশি। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড মার্কেটের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

রিসার্চ অ্যান্ড মার্কেট বলছে, সাইবার হুমকি, গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও অনলাইন ঝুঁকি থেকে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ও ব্যবহারকারীদের রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় টুল ও সেবার চাহিদা বাড়তে থাকবে। অ্যাকাউন্ট ও তথ্য সুরক্ষিত রাখা এবং হ্যাকিং বা ভুল তথ্য ছড়ানোর মতো ক্ষতিকর কার্যকলাপ রোধ সোশ্যাল মিডিয়া নিরাপত্তার অন্তর্ভুক্ত।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিরাপত্তা একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ কোম্পানিগুলো মার্কেটিং, গ্রাহক ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য সোশ্যাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করছে। সাইবার হুমকির বৃদ্ধি যেমন তথ্য ফাঁস, অ্যাকাউন্ট হ্যাক, ফিশিং আক্রমণ সোশ্যাল মিডিয়া নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরছে। সাইবার অপরাধীরা সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্কের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে সংবেদনশীল তথ্য চুরি, ব্র্যান্ডের ছদ্মবেশ ধারণ করছে এবং মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। রিমোট কাজ ও ‘ব্রিং ইয়োর ওন ডিভাইস’ (বিওয়াইওডি) নীতির আগমনের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলগুলো নিরাপদ রাখা আরো চ্যালেঞ্জিং এবং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ডিজিটাল সম্পদ সুরক্ষিত রাখা, গ্রাহকের তথ্য রক্ষা ও ব্র্যান্ডের সুনাম বজায় রাখার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া সুরক্ষা সমাধান গ্রহণ করছে। এসব ঝুঁকির প্রতি বাড়তি সচেতনতা ও সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বিভিন্ন শিল্পে উন্নত সোশ্যাল মিডিয়া সুরক্ষা টুলের চাহিদা বাড়াচ্ছে।

গবেষণা বলছে, সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাকারদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু। কারণ যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত এসব প্লাটফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য থাকে। আবার অন্যান্য অ্যাকাউন্টের সঙ্গেও লিংক করেন ব্যবহারকারীরা।

সোশ্যাল মিডিয়া সুরক্ষার বাজার সম্প্রসারণের পেছনে বেশকিছু কারণ উল্লেখ করেছে রিসার্চ অ্যান্ড মার্কেট, যার মধ্যে সাইবার আক্রমণ বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার বাড়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিং (এমএল) প্রযুক্তির অগ্রগতি অন্যতম। গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনীয়তা, বিশেষত তথ্য ফাঁস, অ্যাকাউন্ট হাইজ্যাকিং ও ফিশিং আক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে আরো সুরক্ষিত রাখার চাহিদা বাড়ছে।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া এক অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবন পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অনেক তথ্য আদানপ্রদান হয়। কিন্তু এসব প্লাটফর্মকে সুরক্ষিত রাখা আজকাল বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাটসহ নানা প্লাটফর্মে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ তাদের চিন্তা, অনুভূতি ও ব্যক্তিগত তথ্য অন্যকে জানায়। সঠিকভাবে সুরক্ষিত না থাকলে এসব তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে যেতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হতে পারে ও ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা তথ্য বা গুজব মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়ে।

তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পাসওয়ার্ড, অ্যাকাউন্ট প্রাইভেসি সেটিংস ও অথেনটিকেশন সুবিধা ব্যবহার করা প্রয়োজন।