ইন্টারনেটে যেকোনো তথ্য খোঁজা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বা ভিডিও দেখতে প্রয়োজন ব্রাউজারের। গুরুত্বপূর্ণ ফরম পূরণসহ অনলাইনে লেনদেন করতে হয় গুগল ক্রোম, মজিলা ফায়ারফক্সের মতো ইন্টারনেট গেটওয়ে সফটওয়্যারের মাধ্যমে। স্পর্শকাতর এসব তথ্য বেহাত হলে হতে পারে বড় ধরনের বিপদ। সেজন্য ইন্টারনেট ব্রাউজিং নিরাপদ করা জরুরি, যা ব্রাউজারের কয়েকটি সেটিংসে পরিবর্তন এনে করা সম্ভব।

অটোফিল ও সেভ পাসওয়ার্ড ডিজেবল

ওয়েবসাইটে লগইনের সময় ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করে রাখার সুযোগ দেয় ব্রাউজার। ঠিকানাসহ আরো কিছু তথ্যও সংরক্ষণ করা যায়। এর মাধ্যমে পরবর্তী লগইন বা ফরম পূরণে অনেকটাই সময় বেঁচে যায়। তবে ব্যক্তিগত কম্পিউটার অন্যের হাতে পড়লে পাসওয়ার্ড না জেনেই অ্যাকাউন্টের অ্যাকসেস পাওয়া সম্ভব। এজন্য অটো-ফিল ও সেভ পাসওয়ার্ড অপশন বন্ধ রাখা নিরাপদ। ব্রাউজারভেদে এ অপশনগুলো বিভিন্ন জায়গায় থাকতে পারে। তবে ব্রাউজারের সেটিংসের সার্চ বারে ‘অটোফিল/ফিল’ ও ‘পাসওয়ার্ড’ লিখলেই অপশনগুলো চলে আসবে। এখন অপশনগুলো আনমার্ক করতে হবে।

ডু নট ট্র্যাক চালু

ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের সময় ব্রাউজার কিছু তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। ব্রাউজিং হিস্ট্রি ও আরো কিছু তথ্যের মাধ্যমেই টার্গেটেড বিজ্ঞাপন দেখানো হয়ে থাকে। অনেক সময় এর মাধ্যমে তথ্য হাতিয়ে নিয়ে অপরাধমূলক কাজ করা হয়ে থাকে। এ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে ব্রাউজারগুলো ‘ডু নট ট্র্যাক’ অপশন চালুর সুবিধা দিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষ ব্যবহারকারীর অনলাইন কার্যক্রমে নজর রাখতে পারে না। মোটামুটি সব ব্রাউজারের ‘প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি’ অপশনের অধীনে ফিচারটি পাওয়া যায়। পাশাপাশি সেটিংসের সার্চ বার থেকেও খুঁজে নেয়া যাবে। এরপর চালু করে নিলেই অনেকটা নিরাপদ থাকা সম্ভব।

পপ-আপ ব্লকার চালু

বিভিন্ন ওয়েবসাইট ভিজিট করার সময় ছোট আকারের উইন্ডোর মাধ্যমে অন্য কোনো ওয়েবসাইটের লিংকে ক্লিক বা কিছু ডাউনলোড করার বার্তা দেয়া হয়। এ উইন্ডোকে পপ-আপ বলা হয়। এ পপ-আপ লিংকের মাধ্যমে ঘটতে পারে তথ্য হাতিয়ে নেয়াসহ হ্যাকিংয়ের ঘটনা। এজন্য পপ-আপগুলো ওয়েবসাইটের নিজস্ব বার্তা নাকি তৃতীয় পক্ষের কোনো বিজ্ঞাপন তা নিশ্চিত না হয়ে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। পপ-আপ থেকে মুক্তি পেতে চালু করা যেতে পারে ব্লকার। এর জন্য সেটিংসের সার্চ বারে ‘পপ-আপ’ লিখলে অপশন চলে আসবে।

উন্নত নিরাপত্তা সেটিংস

নিরাপদ ব্রাউজিংয়ের জন্য সাধারণত নিয়মিত ব্রাউজার আপডেট করা, সন্দেহজনক লিংক পরিহার ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে কিছু ক্ষেত্রে এসব যথেষ্ট নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে বাড়তি সুরক্ষার জন্য ‘ইনহেন্সড প্রটেকশন’ ফিচারটি চালু করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য বিপজ্জনক ওয়েবসাইট ও অন্যান্য হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করবে, যেগুলো গুগল শনাক্ত করতে পারেনি। ফিচারটি চালু করা থাকলে তাৎক্ষণিক ব্রাউজার ওয়েবসাইটগুলো জোরালোভাবে স্ক্যান করতে থাকে। প্রাইভেসি ও সেটিংস অপশনের অধীনে ফিচারটি পাওয়া যাবে।

নিরাপদ সংযোগ

যেসব ওয়েবসাইটের ইউআরএলে ‘https’ থাকে, সেগুলো এনক্রিপশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্রাউজার ও ওয়েবসাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। ব্রাউজারের সেটিংসে পরিবর্তন এনে শুধু নিরাপদ সংযোগের মাধ্যমে ওয়েবসাইট ভিজিট করা সম্ভব। যেসব ওয়েবসাইটে এ নিরাপত্তা থাকবে না, সেক্ষেত্রে সতর্কবার্তা দেখানো হবে।

মেকইউজঅব অবলম্বনে