ভারতের ক্রমবর্ধমান টেলিকম শিল্পে ফাইভজি ও ভবিষ্যতে ৬জি প্রযুক্তি জায়গা করে নেবে। এমনকি এ প্রযুক্তিতে নেতৃস্থানীয় অবস্থান তৈরিতে কাজও করছে দেশটি। প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে দেশটি দক্ষ ও প্রতিভাবান কর্মী সংকটের মুখেও পড়তে যাচ্ছে। খবর ইটি টেলিকম।
ভারতের টেলিকম সেক্টর স্কিল কাউন্সিল (টিএসএসসি) সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। আগামীতে টেলিকম খাতের নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট, অবকাঠামো, বিক্রয়, বিপণন, উৎপাদন, ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটিসহ ফাইভজির মতো উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রগুলোয় দক্ষ কর্মীর চাহিদা আরো বাড়বে বলে জানানো হয়েছে।
টিএসএসসির প্রধান নির্বাহী অরবিন্দ বালি এক সাক্ষাৎকারে জানান, টেলিকম খাতে নতুন প্রযুক্তিগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতে কর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়াতে হবে। যদি এ ধরনের উন্নতি করা সম্ভব না হয়, তাহলে দক্ষ কর্মী ব্যবধান আগামীতে বাড়তেই থাকবে।
অরবিন্দ বালি জানান, টেলিকম শিল্পে টাওয়ার টেকনিশিয়ান ও টাওয়ার ইনস্টলেশন, ফাইবার লাইন স্থাপন, এফটিটিএইচ (ফাইবার-টু-দ্য হোম) সংযোগ বিক্রয়, হ্যান্ডসেট প্রমোটারের মতো বিভিন্ন কাজের জন্য প্রচুর দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়ে গেছে।
টিএসএসসি ও ড্রাপের যৌথ এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমানে ভারতে টেলিকম খাতে কর্মীর চাহিদা-সরবরাহের ব্যবধান ২৪ লাখ ১০ হাজার। ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৩ দশমিক ৮ গুণ বাড়তে পারে। এ ব্যবধান কমাতে ২০২৪ অর্থবছরে ১ লাখ ২৫ হাজার এবং ২০২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৫০ হাজার কর্মী নিয়োগের লক্ষ্য নিয়েছে টিএসএসসি।
ভারতজুড়ে দ্রুত ফাইভ-জি পরিষেবা চালুর উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রসঙ্গে অরবিন্দ বালি জানান, টিএসএসসি টেলিকম কর্মীদের দক্ষ করার জন্য প্রোগ্রাম পরিচালনা করেছে। পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্ক ক্যারিয়ার ও তাদের অংশীদাররা দেশে পঞ্চম প্রজন্মের পরিষেবাগুলোর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার জন্য জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
জিও ও এয়ারটেলের ফাইভজি পরিষেবাগুলো এখন ভারতের বেশির ভাগ অংশজুড়ে রয়েছে। উভয়ই চলতি বছরের মার্চের মধ্যে তাদের কাজ শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করছে। ভারত গত বছরের অক্টোবরে ফাইভজি কভারেজ যুক্ত দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়েছে। সুইডিশ টেলিকম গিয়ার নির্মাতা এরিকসন পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতে ফাইভজি সাবস্ক্রিপশন ২০২৯ সালের মধ্যে ৮৬ কোটিতে বৃদ্ধি পাবে। ২০২৩ সালে এর পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি।
টিএসএসসি ও ড্রাপের যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের টেলিকম খাতে বর্তমানে ১ কোটি ১৫ লাখ ৯ হাজার দক্ষ কর্মী রয়েছে। এর মধ্যে ২৯ লাখ ৫০ হাজার করপোরেট ও ৮৬ লাখ ৪০ হাজার ব্লু-কলার কর্মী রয়েছে। ২০২৩-৪০ সালের মধ্যে ফাইভ জি প্রযুক্তি ভারতীয় অর্থনীতিতে ৫০ হাজার কোটি ডলার যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের মধ্যে ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবট ও ইন্টারনেট অব থিংসের বা আইওটির মতো ফাইভজিকেন্দ্রিক শিল্পে ভারতের ২ কোটি ২০ লাখ দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রযুক্তি, মিডিয়া ও টেলিযোগাযোগ খাতে ১৩ লাখ কর্মী নিয়ে ভারতই একমাত্র দক্ষ শ্রম উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।










