ঘরের পোষা প্রাণী হারিয়ে গেলে যে কতটা কষ্ট ও দুশ্চিন্তা হয়, তা শুধু পরিবারের সদস্যরাই ভালো জানেন। হঠাৎ কুকুরটি বাইরে ছুটে গেল বা বিড়ালটি বহুক্ষণ ধরে বের হয়ে আর ফিরছে না—এমন পরিস্থিতি বড় আতঙ্কের কারণ হতে পারে। তবে প্রযুক্তির সাহায্যে এ ধরনের উদ্বেগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বর্তমানে বাজারে এমন কিছু ট্র্যাকিং ডিভাইস পাওয়া যায় যেগুলোর সাহায্যে পোষা প্রাণীর গলায় পরিয়ে জিপিএস বা ব্লুটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের অবস্থান জানা যায়। ট্র্যাকটিভ, জিওবিট, প’ফিট ও হুইসেলের মতো ব্র্যান্ডগুলো এ ধরনের স্মার্ট কলার গ্যাজেট তৈরি করছে, যেগুলো মোবাইল অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত থেকে অবস্থান জানায়।

কুকুরের জন্য ফাই বা গারমিনের মতো কলার গ্যাজেট পাওয়া যায়, যেগুলো মাঠ-ঘাটে চলাফেরার জন্য বেশ টেকসই। বিড়ালের জন্য ডিভাইসগুলো সাধারণত ছোট ও হালকা হয়ে থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পেটট্রেসার—এটি জিপিএসের পাশাপাশি রেডিও সংকেতও ব্যবহার করে।

এসব ডিভাইসে একটি ‘সেফ জোন’ বা নিরাপদ এলাকা ঠিক করে দেয়া যায়। যেমন বাড়ির চারপাশ বা কোনো নির্দিষ্ট খেলার মাঠ। পোষা প্রাণী যদি ওই সীমা পেরিয়ে যায়, তাহলে অ্যাপে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা আসবে। বেশির ভাগ ডিভাইস ৪জি এলটিই সিগনালের মাধ্যমে চলে। সাধারণত যেসব এলাকায় নেটওয়ার্ক ভালো কাজ করে সেখানে এ প্রযুক্তি বেশ কার্যকর। তবে পাহাড়ি বা দুর্গম অঞ্চলে সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে।

ডিভাইসগুলোর দাম মূলত নির্ভর করে মডেলের ওপর। বেশির ভাগ ১০০ ডলারের কমে পাওয়া যাবে। তবে অ্যাপের মাধ্যমে পূর্ণ সেবা পেতে মাসিক বা বার্ষিক সাবস্ক্রিপশন ফির প্রয়োজন হয়। সব মিলিয়ে বিষয়টি অনেকের জন্য বাড়তি খরচের কারণ হতে পারে। কিন্তু পোষা প্রাণী থেকে পাওয়া মানসিক প্রশান্তির কথা ভাবলে অনেকের কাছেই এটিকে কোনো ব্যাপার মনে না-ও হতে পারে।

সাধারণত এসব কলার গ্যাজেটের ব্যাটারির চার্জ দুই-তিন দিন স্থায়ী হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থানসংক্রান্ত আপডেটের প্রয়োজন হলে চার্জ দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে। কিছু ডিভাইস আবার সেফ জোনে কম আপডেট পাঠিয়ে চার্জের স্থায়িত্ব বাড়ায়।

লোকেশন ছাড়াও অনেক অ্যাপে স্বাস্থ্য ও অ্যাকটিভিটি মনিটরিং ফিচার থাকে। কুকুর বা বিড়ালের বিশ্রাম বা হাঁটার সময় এর থেকে জানা যায়। তবে ডিভাইসগুলো শতভাগ নির্ভরযোগ্য তা বলা যাবে না। কারণ সেফ জোনের বাইরে গেলে সতর্কবার্তা পাঠালেও অনেক সময় প্রাণীর গলা থেকে পড়ে যেতে পারে বা কেউ খুলে ফেলতে পারে। তাছাড়া এলাকাভেদে সিগন্যাল ঠিকঠাক নাও পাওয়া যেতে পারে।

অনেক পোষা প্রাণীর শরীরে এখন মাইক্রোচিপ বসানো হয়। এসব চিপের সাহায্যে মালিকের বা নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়। তবে তা দিয়ে রিয়েল টাইম অবস্থান জানা যায় না। কেউ প্রাণীটি খুঁজে পেলে, সেটি ভেট বা শেল্টারে নিয়ে গিয়ে স্ক্যান করার মাধ্যমে চিপের তথ্য জানা যায়।

কলার ডিভাইসের বিকল্প হতে পারে অ্যাপল এয়ারট্যাগ, স্যামসাং স্মার্টট্যাগ ও টাইলের মতো ব্লুটুথ ট্র্যাকার। এগুলো সাবস্ক্রিপশন ফি ছাড়াই চলে এবং চার্জও অনেক দিন থাকে। তবে এ ধরনের ডিভাইস সাধারণত ছোট প্রাণীর জন্যই উপযোগী এবং সীমিত পরিসরে কাজ করে।

এপি অবলম্বনে